দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতের গ্যাসের চাহিদা নিশ্চিত করতে নতুন একটি দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুনভর ইউএসএ এলএলসির সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে ১৩ বছর মেয়াদি চুক্তির প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পথ উন্মুক্ত হবে।
বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে কাতার, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট
সাতটি জিটুজি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি করছে। তবে দেশে গ্যাসের ঘাটতি এবং আগামী বছরগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনায় নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার অতিরিক্ত উদ্যোগ নিচ্ছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, গুনভর ইউএসএ এলএলসি ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ছয়টি এলএনজি কার্গো বাংলাদেশে সরবরাহ করবে। ১৩ বছর মেয়াদি এই সরবরাহ পরিকল্পনাকে জিটুজি কাঠামোর আওতায় চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ দিতে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ওপর। আর এলএনজি আমদানি ও চুক্তি পরিচালনার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা।
জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি আমদানি চুক্তি থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা বা সরবরাহ সংকটের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং অন্যান্য খাতে প্রয়োজনীয় গ্যাসের ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত করতেও এ ধরনের চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।