তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার পর নতুন করে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। আমিরাতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর এটিই প্রথম বৈঠক।

রোববার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেক প্লাসভুক্ত সাতটি দেশ আজ বৈঠকে বসছে। বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর নতুন তেল উৎপাদন কোটা নির্ধারণ করা হতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

প্রায় ছয় দশক ওপেকের সদস্য থাকার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে জোটটি ছাড়ে। ১ মে থেকে তাদের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিস্তৃত ওপেক প্লাস জোট থেকেও সরে গেছে।

আমিরাতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, কৌশলগত স্বার্থ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতার কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাতের এ পদক্ষেপ ওপেকের জন্য বড় ধাক্কা, বিশেষ করে জোটটির প্রভাবশালী সদস্য সৌদি আরবের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

এদিকে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি চাপের মুখে পড়েছে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়।

আঞ্চলিক ব্যবসা ও জ্বালানি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার আমিরাতের এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন তারা অভিযোগ করছে, যুদ্ধকালীন সময়ে ইরানের হামলা মোকাবিলায় অন্যান্য আরব দেশ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পায়নি।

১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক বর্তমানে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অন্যতম প্রভাবশালী জোট হিসেবে বিবেচিত।