• নেসকো ১.৭৬ টাকা, ওজোপাডিকো ১.৬৫ টাকা, ডিপিডিসি ১.৫৮ টাকা
  • ডেসকো ১.৪৫ টাকা, বিপিডিবি ১.৩৩ টাকা বিতরণ চার্জ প্রস্তাব করেছে

বাণিজ্যিক পাওয়ার প্লান্টের সঞ্চালন ও বিতরণ চার্জ নির্ধারণের আবেদন করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। সঞ্চালনে ২৩০, ১৩২ ও ৩৩ কেভিতে যথাক্রমে ৪৬, ৪৯ ও ৭৮ পয়সা প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য ইউনিট প্রতি ৩১ পয়সা চার্জ আদায় করে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। সেখান থেকে ১৫ পয়সা বাড়িয়ে ৪৬ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদনের পরে গ্রহণ করে বিতরণ কোম্পানির পয়েন্টে সঞ্চালনের দায়িত্ব পালন করে আসছে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি পিজিসিবি।

অন্যদিকে দশমিক ৪ কেভিতে নেসকোর জন্য সর্বোচ্চ বিতরণ চার্জ ইউনিট প্রতি ১.৭৬ টাকা, ওজোপাডিকো ১.৬৫ টাকা, ডিপিডিসি ১.৫৮ টাকা, ডেসকো ১.৪৫ টাকা, বিপিডিবি ১.৩৩ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ১৩৩ কেভিতে সর্বোচ্চ বিপিডিবির ১.১৪ টাকা সর্বোনিম্ন নেসকো ৬৯ পয়সা করার আবেদন করা হয়েছে।

বিপিডিবির ওই আবেদন পাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি বলেছেন, বিইআরসি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, এরপর টেকনিক্যাল কমিটি মূল্যায়ন করবে। তারপর গণশুনানিতে যাওয়ার কথা।

তিনি বলেন, আমরা চাই নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের প্রসার। আর নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সফল করতে মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি করা হয়েছে। এমন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না যাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ব্যহত হতে পারে। যে কারণে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে বাণিজ্যিক পাওয়ার পলিসির মাধ্যমে নতুন ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে বিপিডিবি ছিল একক ক্রেতা, সব বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বিপিডিবির সঙ্গে পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ) সই করতে হতো। বিপিডিবি তখন চাহিদামত বিদ্যুৎ কিনে ছয়টি সরকারি বিতরণ সংস্থার মাধ্যমে বিক্রি করত। সেই চুক্তিতে দুই ধরণের খরচ যুক্ত থাকে, একটি হচ্ছে জ্বালানি খরচ আরেকটি ক্যাপাসিটি চার্জ। যেটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, সেটুকুর জন্য জ্বালানি খরচ অন্যদিকে ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ধারিত। বিদ্যুৎ না নিলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়। যে কারণে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে থাকলে কাড়িকাড়ি ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে বিপিডিবিকে।

এর বাইরে একটি বাণিজ্যিক ক্যাটাগরির বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদ্যমান। যাদের নিজস্ব কারখানায় ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ শর্তসাপেক্ষে বাইরে বিক্রি করার সীমিত সুযোগ ছিল। ওই ক্যাটাগরিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ইপিজেডে দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছে ইউনাইটেড গ্রুপ। নিজের ব্যবহারের পর বাড়তি বিদ্যুৎ বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করে আসছে।

অন্যদিকে বাণিজ্যিক পাওয়ার পলিসিতে বলা হয়েছে, সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো চাইলে এসব কেন্দ্র থেকে মাসিক উৎপাদনের ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ কেনার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে আগের মতো সরকার ন্যূনতম ২০ শতাংশ কিনবেই, এমন কোনো নিশ্চয়তা দেবে না।

‘এনহান্সমেন্ট অব প্রাইভেট পার্টিসিপেশন ইন দ্য রিনিউয়েবল এনার্জি-বেইজড পাওয়ার জেনারেশন’ শীর্ষক নীতিমালায় প্রথমবারের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এক বা একাধিক মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট (এমপিপি) নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত সংস্থা (এসপিভি) তৈরি করতে পারবে। মূল কোম্পানির আর্থিক ঝুঁকি থেকে এই সংস্থাকে আলাদা রাখার জন্য এ ধরণের পৃথক প্রতিষ্ঠান করতে হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশের আইন ও গ্রিডের মানদন্ড মেনে চলতে হবে।

খোলা বাজারে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে বেসরকারি মালিকানাধীন এসব বিদ্যুৎ কোম্পানি। তবে গ্রিড ব্যবহার করার জন্য এবং সরকারি বিতরণ কোম্পানির কাছে বিক্রির জন্য বিপিডিবি, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলোর মধ্যে ‘সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট’ সই করতে হবে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মার্চেন্ট প্ল্যান্ট ও তাদের গ্রাহকেরা বিদ্যুতের দাম নিজেরা আলোচনা করে নির্ধারণ করবে। আর সরকারি বিতরণ সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে ট্যারিফ নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিইআরসি বৈষম্যহীনভাবে গ্রিড সংযোগের প্রযুক্তিগত মান এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ফি নির্ধারণ করবে। তারই আলোকে বিইআরসির কাছে সঞ্চালন চার্জ নির্ধারণের আবেদন করা হয়েছে। তবে তা বিদ্যমান চার্জের থেকে খানিকটা বেশি আবেদন করায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মার্চেন্ট নীতিমালার লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা বাড়ানো, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর দক্ষতা উন্নত করা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো। নীতিমালায় মার্চেন্ট প্ল্যান্টগুলোর জন্য যেমন একাধিক গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ রাখা হয়েছে, তেমনি শিল্প কারখানা বা বড় প্রতিষ্ঠানের মতো গ্রাহকেও একাধিক উৎপাদকের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।