আন্তর্জাতিক আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে আইসিসি বাংলাদেশ-এর কর্মশালা

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স-আইসিসি বাংলাদেশ “International Financial Crime: Identifying Risk & Preventing Fraud in International

Trade” শীর্ষক একটি কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালাটি লন্ডনভিত্তিক ICC Commercial Crime

Services (CCS) Ges ICC International Maritime Bureau (IMB) -এর সহযোগিতায় গত শনিবার ঢাকার একটি স্থানীয় হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।

আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন। কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য দেন সিসিএস এর সিইও মার্সেল ওয়াল্টি, আইসিসি সিসিএস এর পরিচালক সাইরিস মোডি। আইসিসি বাংলাদেশের মহাসচিব আতাউর রহমান সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন।

সমাপনী বক্তব্যে আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিভিন্ন ঝুঁকি—বিশেষ করে প্রতারণা ও অনিয়মের ঝুঁকি—বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ ধরনের ঘটনার ফলে ক্ষতির অর্থ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই সীমিত। তাই ব্যাংকার, রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের জন্য বর্তমান সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সেগুলো প্রতিরোধের উপায় জানা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, সামুদ্রিক বাণিজ্য বাস্তব অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও প্রবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামুদ্রিক ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নাবিকদের সুরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—যা শুধু নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও সংশ্লিষ্ট অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্যও অপরিহার্য। সমুদ্রপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

আর্থিক অপরাধের ক্রমবর্ধমান ও পরিবর্তনশীল প্রকৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতারণা ও ডেটা নিরাপত্তাজনিত হুমকি বিভিন্ন রূপে এবং নানা মাধ্যমে দেখা দিচ্ছে। তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অপরাধীরা কীভাবে কাজ করে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে—তা সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। এ ধরনের জ্ঞান ও কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি কমাতে এবং বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আগেই হুমকি শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, প্রতারণা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার কোনো একক সমাধান নেই। তবে ভোক্তা, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সকল অংশীজনের সম্মিলিত ভূমিকা প্রতারণা প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যাংকারদের উচিত আধুনিক প্রতারণা শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ প্রযুক্তি ব্যবহার করে শক্তিশালী ও প্রোঅ্যাকটিভ ফ্রড ম্যানেজমেন্ট কৌশল গ্রহণ করা।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ মোট ২৩টি ব্যাংকের ৮৮ জন প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (BIBM)-এর ২ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

একই কর্মশালা ১২ এপ্রিল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ ১৯টি ব্যাংকের ৫৬ জন প্রতিনিধি এবং ইস্টার্ন ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৮ জন ক্লায়েন্ট অংশগ্রহণ করেন।