কুলাউড়া সংবাদদাতা: দেশের সর্ববৃহৎ হাওড় হাকালুকি হাওড়ে তলিয়ে যাচ্ছে কয়েক হাজার হেক্টর পাকা ধান। এ বছর শুরুতে খরায় নষ্ট হলো আর এখন বৃষ্টির পানি তলিয়ে যাচ্ছে হাকালুকি হাওড়ের বুরো ধান। বেশ আমেজ নিয়েই কৃষকরা এ বছর বুরো ধান কাটা শুরু করে। পরিবেশ ও ছিলো অনুকূলে। প্রায় অর্ধেকের বেশি ধান কাটাও শেষ হয়ে যায়।
কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা, ভুকশিমইল ইউনিয়নে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় কৃষক আর পানির যুদ্ধ। লাগাতার বৃষ্টিপাতের ফলে হু হু করে বাড়ছে পানি। এতে চোখের সামনেই তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ধান। স্থানীয় কৃষক জালাল খান বলেন, এরকম দৃশ্য আমাদের প্রতিবছরই দেখতে হয়। ঠিকমত নদী খনন না হওয়ার ফলে এবং ফেঞ্চুগঞ্জে অপরিকল্পিত বুড়িকিয়ারি বাঁধের ফলে একটু বৃষ্টি হলেই হাওড় পানিতে ভরে যায়। যে হারে পানি বাড়ছে তাতে কৃষকরা বাকি ধান ঘরে তুলতে না পারার শঙ্কা করছেন আর যেসব ধান কেটে বাড়িতে তুলেছেন সেগুলোও রোদের অভাবে ঘরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেক কৃষক বলেন নেতারা এসে আশ্বাস দিয়ে যান নদী খননের এবং বুড়িকেয়ারী বাঁধ অপসারণের কিন্তু তারপর আর কোনো বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যায় না। তাই কৃষকরা কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রশিদপুর এলাকার আলয় বিলে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে বিপুল পরিমাণ পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। সময়মতো কাটতে না পারায় মাঠেই পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। তার ওপর তীব্র শ্রমিক সংকট পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করেছে। পানির নিচে সোনার ফসল, উঠানে তুলেও শান্তি নেয়।
দুপুরে আলয় বিলে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠের কাটার উপযোগী ধান হাঁটুপানির নিচে ডুবে আছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে কোমরপানিতে নেমে কাঁচি দিয়ে ধান কাটছেন। নৌকায় করে সেই ভেজা ধান উঁচু জায়গায় তুলে ট্রাকে বোঝাই করা হচ্ছে। কিন্তু পানিতে ভিজে ধানের শীষ থেকে চাল ঝরে পড়ছে, আবার কাটা ধান শুকানোর জায়গাও মিলছে না। রশিদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, আমার দুই বিঘা জমির ধান একদম পাকা। দুই দিন আগে কাটতে চাইছিলাম। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে পুরা বিল ডুইবা গেছে। এখন পানি কমার অপেক্ষা ছাড়া উপায় নাই। কিন্তু পানি না কমলে সব ধান পচে শেষ।
ধান কাটার ভরা মৌসুম হলেও এলাকায় কামলা পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকরা বলছেন, পানির মধ্যে নেমে কাজ করতে শ্রমিকরা দ্বিগুণ মজুরি চাচ্ছে। তাও মিলছে না।
নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে টানা বৃষ্টিপাতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
মঙ্গলবার ও বুধবার (২৮ ও ২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে থেমে থেমে হওয়া ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে পানি জমে গেছে। এতে পাকা ধান কাটা ও ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জমির ধান ইতোমধ্যে পেকে সোনালি রঙ ধারণ করেছে। কিছু কৃষক ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে হঠাৎ বৃষ্টিপাত তাদের সেই প্রস্তুতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় কৃষকরা মাঠে নামতে পারছেন না। নিচু এলাকার কিছু জমিতে ধান হেলে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
শওগুন খোলা গ্রামের কৃষক আতোয়ার রহমান জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। তার অধিকাংশ ধান এখন কাটার উপযোগী হলেও টানা বৃষ্টির কারণে তিনি ধান কাটতে পারছেন না।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১৭ হাজার ৮৫৪ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালো ফলনের আশা করা হলেও হঠাৎ বৃষ্টিপাতে কৃষকদের মধ্যে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, খাল সংস্কার এবং কৃষি যন্ত্রপাতিতে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। বছরের অন্যতম প্রধান ফসল ঘরে তুলতে এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন নবাবগঞ্জের হাজারো কৃষক।
নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) : বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে পৃথক ঘটনায় ঝড়ের তীব্র বাতাসে চলন্ত সিএনজির ওপর গাছের ডাল পড়ে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
সম্প্রতি বাইশারী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের তুফান আলী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোস্তাক আহমেদ (৬৫), যিনি রিফুজি মোস্তাক নামে পরিচিত, মৃত উলা মিয়ার ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো দুপুরে খাবার শেষে তিনি নিজস্ব পানের বরজ ও রাবার নার্সারিতে যান। এ সময় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে ফাড়িখাল এলাকায় পৌঁছালে বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পানিতে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পথচারীরা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তাহেরকে খবর দেন।
ইউপি সদস্য আবু তাহের জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান এবং বিষয়টি বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।