টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের পর অবশেষে হবিগঞ্জের আকাশে দেখা মিলেছে রোদের। এতে সকাল থেকেই হাওরাঞ্চলে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষানিরা। কেউ ধান শুকাতে, কেউ আবার পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান সংগ্রহে ছুটছেন হাওরে।

দীর্ঘ প্রায় ১০ দিন পর গতকাল শুক্রবার সকালে রোদের দেখা মেলায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে তাদের আক্ষেপ, আরও এক সপ্তাহ আগে রোদ উঠলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো। এখনো হাওরের প্রায় ২৫ শতাংশ ধান জমিতে রয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাকি ধান দ্রুত ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন কৃষকরা।

বানিয়াচং উপজেলার কৃষক রমিজ আলী জানান, গত ৮ থেকে ১০ দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এখনো তার ৮ কেয়ার জমির ধান পানির নিচে রয়েছে। যেসব ধান কাটা হয়েছে, সেগুলো শুকাতেই এখন ব্যস্ত সময় কাটছে।

একই উপজেলার কৃষক উম্মেদ আলী বলেন, “সরকার সহযোগিতা না করলে এ বছর পরিবার নিয়ে টিকে থাকা কঠিন হবে। ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা চালানোও কষ্টকর হয়ে যাবে। জমি চাষ করতে যে ঋণ নিয়েছি, সেটাও পরিশোধ করতে হবে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, হবিগঞ্জে পানিতে পুরোপুরি তলিয়ে গেছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও অন্তত ৩ হাজার হেক্টর জমি। সব মিলিয়ে জেলায় প্রায় সাড়ে ১১ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে আবাদ হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৫৪ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে হাওরাঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ২৩ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী কৃষকদের তিন ভাগে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর মধ্যে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পাবেন ৭ হাজার ৫০০ টাকা, মধ্যম ক্ষতিগ্রস্তরা পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পাবেন ২ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি প্রত্যেক কৃষককে ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।