হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা : ‘একসঙ্গে মাঠের সবার ধান পেকে গেছে, তার ওপর মাঝে মধ্যে বৃষ্টি। নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে । শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ, কিন্তু ধানের দাম পড়ে গেছে। এখন ধান ঘরে তুলব কীভাবে, কিছুই বুঝতে পারছি না।’ কথাগুলো বলছিলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার টান সিদলা গ্রামের কৃষক মো. আসাদুল ইসলাম।

বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। কিন্তু কষ্টে ফলানো ধান ঘরে তুলতে না তুলতেই কৃষকের মুখের হাসি মিলিয়ে যাচ্ছে। বাজারে গিয়ে তারা দেখছেন, ধান উৎপাদনে তাদের যে খরচ হয়েছে, বিক্রি করতে হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম দামে। সরকার নির্ধারিত দামও তারা পাচ্ছেন না।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানাযায় , এলাকায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। চারদিকে মাঠভরা পাকা ধান। তবে এই সম্ভাবনার মাঝেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অনিয়মিত ঝড়-বৃষ্টির । নিম্নাঞ্চলের জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে বেশ কিছু।

একই সময়ে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে একজন শ্রমিকের জন্য ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১ হাজার থেকে ১১শত টাকায়। অর্থাৎ এক মণ ধানের দামেই একজন শ্রমিকের মজুরি মেটানো যাচ্ছে না।

সাহেদল গ্রামের কৃষক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। হালচাষ, সেচ, কীটনাশক সবকিছুর খরচ বেড়েছে। দোকানের ধার-দেনা, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

কৃষকেরা জানান, গত কয়েক বছরে ধান উৎপাদনের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় তারা বিনিয়োগের টাকা তুলতে পারছেন না। এতে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন।

মাঠের কৃষকেরা আরও বলেন সরকার বাজারে দাম না বাড়লে তাদের লোকসান পুষিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোহসীন বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে হোসেনপুরে প্রায় ৮ হাজার ১শত ৩০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই কৃষকেরা যেন তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান। এবার ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। এক সপ্তাহ ধরে ধান কাটা শুরু হয়েছে, তবে চলতি সপ্তাহে ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে । শিলা বৃষ্টি ও আগাম পানির কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা তো চিন্তা করে কোন লাভ নেই । এখন কৃষকদের প্রতি পরামর্শ থাকবে,জমির ধান ৭০ শতাংশ পেকে গেলে যেন তারা কেটে ফেলেন। সরকার ঘোষিত ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।