আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা: চলতি বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে সোনালি ধানের সমারোহ। সোনালী রোদ আর হিমেল হাওয়ায় ফসলের মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন ধানের শীষ। দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ, সবুজ বর্ণ থেকে হলুদ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। আর মাত্র কদিনের পরই কৃষকের উঠানে আছড়ে পড়বে সোনালী ধান। ভরে উঠবে ধানের গোলা। মুখে ফুঁটবে সোনালী হাসি। উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরা জানান, পাকাধান ঘরে উঠবে আর কয়েক দিনের মধ্যে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা কাঙ্খিত ফলন পাবে। তবে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে দুশ্চিন্তায় রয়েছে কৃষকরা। মাটির ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, সার ও ডিজেল সংকট, কীটনাষকের মূল্য বৃদ্ধিতে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি নির্ভর জেলা সাতক্ষীরায় বোরো ধানের ন্যার্য মূল্য পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পেশা বদলের কারণে শ্রমিক পেতে ভোগান্তি, অন্যদিকে ধানের দাম নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। তবে কৃষকদের ধান কাটা এবং সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
ভৌগোলিক কারণে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা সাতক্ষীরা জেলার একটি বড় অংশ বছরের অধিকাংশ সময় লবণাক্ততার ঝুঁকির মুখে থাকে। বিশেষ করে নদী-খাল আর চিংড়িঘেরের লোনা পানির প্রভাবে সাধারণ চাষাবাদ ব্যাহত হয়। তবুও জীবন-জীবিকার তাগিদে এই লবণাক্ত মাটির সঙ্গে লড়াই করেই বোরো আবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন উপকূলের কৃষকেরা। জেলার কৃষকরা গত কয়েক বছর ধরে বোরো ধান চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তারা এখন চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, যার মধ্যে উন্নতমানের বীজ, সেচ ব্যবস্থা এবং নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে চাষিরা ভালো ফলন পাচ্ছেন এবং তাদের আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কৃষকরা আরিফুল ইসলাম নয়ন বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা, বিশেষ করে সাবসিডি দেওয়া সার ও কীটনাশক এবং সেচের জন্য পানি সরবরাহে সহযোগিতার কারণে বোরো ধান চাষের পরিমাণ বাড়ছে।
সদর কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানিয়েছেন, বোরো ধানের আবাদ বাড়ানোয় সাতক্ষীরা জেলার কৃষির উন্নতি ঘটছে। তারা আশা করছেন, এবারের বোরো ধান থেকে ভালো ফলন হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন। তারা আরও বলেন, জেলার কৃষকদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং তারা সবসময় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্ররোচিত করবেন। তিনি আরো বলেন, আমরা কৃষকদের মাঝে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, যাতে তারা আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে। এছাড়া, ফসলের সঠিক পরিচর্যার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আমাদের চাষ হয়েছে ৮২ হাজার ৬৭৩ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরোর বাম্পার ফলন হবে।