মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা ঃ যে মাটির বুক চিরে সবুজ ফসল হাসার কথা, সেখানে এখন শুধুই বিষাক্ত স্থির পানির রাজত্ব। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আকুবপুর ইউনিয়নে উন্নয়নের নামে চলছে সরকারি খাল দখলের উৎসব। এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলদারিত্বের চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে কয়েকশ প্রান্তিক কৃষককে। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পানি নিষ্কাশনের পথ, যার ফলে প্রায় ৫০০ একর ফসলি জমি এখন এক বিশাল ‘বদ্ধ জলাশয়’।

সরেজমিনে আকুবপুর ইউনিয়নের বলীঘর ও সাহেদাগোপ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমের ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা যেখানে থাকার কথা, সেখানে কৃষকরা তাকিয়ে আছেন দিগন্তজোড়া জমে থাকা পানির দিকে। সাহেদাগোপ থেকে বলীঘর যাওয়ার রাস্তার পাশেই ছিল বিশাল কৃষি মাঠের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো একটি খাল। স্থানীয়দের অভিযোগ, বলীঘর মৌজার বি.এস ১৬৫৮, ১৬৬৪-সহ একাধিক দাগের সরকারি ভূমি এখন মাটির নিচে চাপা পড়েছে। প্রভাবশালী নাছির উদ্দীন গংরা খালের মুখে মাটি ফেলে সেটি বন্ধ করে দিয়েছেন। লোক দেখানো হিসেবে মাটির নিচে মাত্র তিন ইঞ্চির একটি প্লাস্টিক পাইপ দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে বিশাল বিলের পানি নিষ্কাশন অসম্ভব।

এই জলাবদ্ধতার কারণে পীর কাশিমপুর, বাঐখাঁর, চিড়ামুড়ী, হরেরপাড়, বলীঘর, সাহেদাগোপ ও সুলতানপুর গ্রামের বিলের ধান এখন ৮ থেকে ২০ ইঞ্চি পানির নিচে। স্থানীয় কৃষক আমিনুল ইসলাম ও কবির হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “গুটিকয়েক মানুষের লোভের কারণে আমাদের সারা বছরের স্বপ্ন পানির নিচে পচে যাচেছ। ৫শ একর জমির ধান এখন পচে যাওয়ার উপক্রম। আমরা এখন ঋণের বোঝা নিয়ে পথে বসার ভয়ে আছি।”

মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. পাভেল খাঁন পাপ্পু জনান, খালের প্রায় ২০ মিটার অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে দখল করায় ৫শ একর জমি নিমজ্জিত রয়েছে। জমিতে পানি জমে থাকায় কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না, আর শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বি বলেন, “জলাবদ্ধতার বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

প্রশাসনের কাছে কয়েক দফা লিখিত আবেদন দিলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তাদের দাবি একটাই কোনো অজুহাত নয়, দ্রুত অবৈধ দখল উ”েছদ করে ৪শ বছরের পুরনো খালটি মুক্ত করা হোক। সরকারি সম্পদ উদ্ধার এবং কৃষকের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর ও জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।