গত কয়েকদিনের অভিরাম বর্ষন ও উজানের পাহাড়ি ঢলে রাজনগরের কাউয়াদীঘি হাওরের পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, কাশিমপুর পাম্প হাউজের গাফিলতিতে সেচ পাম্পগুলো সচল না থাকায় ধান তলিয়ে গেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বারবার বলে আসছে তারা পানি নিয়মিত সেচ দিচ্ছে। এদিকে শ্রমিক সংকট, বৃষ্টিতে পানি বাড়ার কারনে কৃষকরা ধান কাটতে পারছেন না। হাওরে ঘুরে দেখা যায়, মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে যানা যায় রাজনগর উপজেলায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বুরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে কাউয়াদীঘি হাওরে ৬ হাজার ২’শ ৩৭ হেক্টর। কৃষকেরা। নৌকা দিয়ে ধান কেটে পাড়ে আনা হচ্ছে। কম্বাইন্ড হারবেস্টার দিয়ে পানিতে ধান কাটতে না পেরে, অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ করে কোনো রকমে অনেকে ধান কেটে তুলছেন। কৃষকদের অভিযোগ, কাশিমপুর পাম্প হাউস নিয়মিত চালু না থাকায় বৈশাখের শুরু থেকেই অল্প অল্প করে হাওরের নিচু অঞ্চলের পাকা আধা-পাকা বোরোধান তলিয়ে যাচ্ছিল। গত চার দিনের টানা বৃষ্টিতে কাউয়াদীঘি হাওরের প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরোধান তলিয়ে গেছে। রক্তা গ্রামের কৃষক তজমুল আলী (৬৫) বলেন, হাওরে গিয়ে বুক ধরা যায় না। যে ধান দুই দিনের মধ্যে কাটার কথা ছিল তা আজ পানির নিছে। পানি বাড়ার কারণে কম্বাইন্ড মেশিন দিয়ে ধান কাটার সুযোগ নেই। শ্রমিক দিয়ে হাতে কাটতে হচ্ছে। এছাড়াও শ্রমিক সংকট চরমে। হাওরের উলাউলি, কাটারি, বদিরবাড়া, মাঝের ছাউলিয়া, কুশুয়া, মাছুরমুখ গিরিমসহ হাওরের বেশ কয়েকটি বিলের পাকা ধান একেবারে তলিয়ে গেছে। জাহিদপুর গ্রামের ফয়জুল হক (৩৫) বলেন, আমার নিজের ১০ বিঘারও বেশি পাকা ধান তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির শুরু থেকে পানি সেচ দিলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হতো না। পানি উন্নয়নে বোর্ডের গাফিলতির কথা মানতে নারাজ মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ বিন ওয়ালিদ। তিনি সাংবাদিকদের কাছে সেচ পাম্প বন্ধ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। বলেন, সেচ পাম্প প্রত্যেক দিনই চালু থাকে। শুধু গত দুই দিন ঝড় তুফানের জন্য পাম্প বন্ধ ছিলো। সরেজমনি গিয়ে দেখা গেল আটটির মধ্যে ছয়টি পাম্প চালু আছে। এব্যাপারে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার বলেন, হাওরে দুই তৃতীয়াংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। ১৪০ হেক্টরেরও বেশি পাকা ধান পানির নিছে তলিয়ে গেছে। চা বাগান থেকে শ্রমিক সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশা করছি বৃহস্পতিবার থেকে তারা মাঠে নামবে। কাশিমপুর পাম্পা হাউজে সেচ যন্ত্র চলমান রয়েছে। আশাকরছি আমাদের তেমন ধান হয়তো নষ্ট হবে না।