আল হেলাল, (নালিতাবাড়ি-শেরপুর) : বৈশাখ মাসের শুরু থেকে শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। ঝির ঝির বাতাসে এখন পাকা ধানের মনমাতানো গন্ধ। কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকরা ব্যস্ত বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ে এবং নতুন ধান গোলায় তুলতে। এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে। ফসলের মাঠে এখন পাকা ধানের সোনালি হাসি। বৈশাখের মাঝামাঝি এ সময়ে উজ্জ্বল রোদে মাঠের পাকা ধানগুলো ঝলমল করায় কৃষক কিষানির মন ভরে উঠলেও সম্প্রতি নালিতাবাড়ি উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভাসহ ধান উৎপাদনের দিক থেকে নালিতাবাড়ি শীর্ষে।

উপজেলার বিভিন মাঠে ঘুরে ও কৃষকের সঙ্গে কথা বলে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের চিত্র পাওয়া গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩ হাজার ১শ ৩৫ হেক্টর। তার মধ্যে হাইব্রিড ১৭ হাজার হেক্টর এবং উপশী ৬ হাজার হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এরইমধ্যে অনেক জমির ধান কাটা শুরু হয়েছে। বাকি জমির ধানপাকা অবস্থায় দোল খাচ্ছে। এ বছর ধানের উৎপাদনও ভাল হয়েছে। ধানে পোকার আক্রমন কম হওয়া এবং জমিতে সুষম সার ব্যবহারে কৃষকের দক্ষতাবৃদ্ধির কারনে উৎপাদনে এ সুফল মিলেছে বলে কৃষি বিভাগ দৈনিক সংগ্রামকে জানিয়েছে। তবে কাল বৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার রুপনারায়নকুড়া, মরিপুরান, যোগানিয়া, কলসপাড়, নুন্নী পার্শ্ববর্তী উপজেলার নকলার ধনাকুশাসহ বেশকিছু এলাকায় ধানের ক্ষতি হয়েছে। একই কথা কৃষকেরও। এদিকে সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ রাশিদুল ইসলাম ইমরান বলেন, রামচন্দ্রকুড়া, পোড়াগাও, নুন্নী এ তিনটি ইউনিয়নে ২১শত ৬০ হেক্টর বোরো আবাদ হয়েছে। ৮০% ধান পাকলে কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিয়েছে ধান কেটে ফেলতে। না কাটলে ভারতীয় হাতির পাল ক্ষতি করতে পারে। উপজেলার ৪০% ধান পেকে গেছে। রৌদ উঠলে আজ থেকেই শুরু হবে ধান কাটা।