দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার দাউদকান্দিতে প্রথমবারের মতো মালচিং পদ্ধতিতে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ক্যাপসিকাম চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন স্থানীয় কৃষকরা। টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়। এ বছর উপজেলার মোহাম্মদপুর ও মালিগাঁও ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে ৫ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিকাম আবাদ করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মলয় গ্রামের জামাল হোসেন ও আয়শা বেগম এবং মালিগাঁও ইউনিয়নের আনুয়াখোলা গ্রামের মোজাম্মেল হক এ চাষে অংশ নেন। মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করায় আগাছা কম জন্মায়, সার কম লাগে এবং উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম হয়—ফলে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। আনুয়াখোলা গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, তিনি ২০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন। বাজারে ভালো দাম থাকায় লাভের আশা করছেন। কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার ও মালচিং ফিল্ম পাওয়ায় খরচ কমেছে বলেও জানান তিনি। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষকই কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, কৃষাণী আয়শা বেগম বলেন, ৩০ শতক জমিতে প্রথমবার ক্যাপসিকাম চাষ করে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ কেজি বিক্রি করেছেন। কৃষি বিভাগের সহায়তায় খরচ কম হলেও নতুন হওয়ায় কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে চাষ করার প্রত্যাশা তার।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ পাটোয়ারী জানান, এ উদ্যোগের ফলন আশানুরূপ হয়েছে এবং আগামীতে আরও বেশি কৃষককে এ চাষে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা বলেন, দাউদকান্দিতে প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে ক্যাপসিকাম আবাদ করে কৃষকরা ইতিবাচক ফল পেয়েছেন। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই সবজির আবাদ ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।