কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে আব্দুল মজিদ : সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের গ্রাম বাংলার কৃষকের সবুজ রংঙ্গের বর্ণিল স্বপ্ন মাঠ জুড়ে সবুজের সমারহ উপজেলা জুড়ে বোরো ধানের সবুজের নিলা ভূমি। উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে ও ১টি পৌরসভায় বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন ইরি-বোরো ধান গাছের সবুজ পাতায় বর্ণিল সাজে সেজেছে উপজেলা জুড়ে। যতদূর চোখ যায় মাঠ জুড়ে ততোদুর সবুজ আর সবুজ। গ্রাম বাংলার কৃষকের স্বপ্নের বোরো ধানে সকালের শিশির ভেজা ভেজা স্নিগ্ধতায় সবুজ পাতা চোখে পরার মতো, কৃষকের গায়ের ঘাম ঝরানো অর্জিত এই সোনার ফসলের দৃশ্য যেনো মন ছুয়ে যায় হৃদয়ের গহীনে। চলতি বোরো মৌসুমে ধানের ভাল ফলনের আশায় দুচোখ ভরে স্বপ্নে বিভোর কৃষকদের চোখে।
বৃহস্পতিবার সকালে এক পসলা বৃষ্টিতে ধানের সবুজ পাতা ধূয়ে যাওয়ায় ধানের পাতাগুলো আরো সতেজ হয়ে রং ছরাচ্ছে মাঠে। ধানের রোগ দমনে আগে ভাগেই পরিচর্যার কারণে তেমন কোন রোগ-বালাই না দেখা গেলেও কৃষকরা ধানের ক্ষেতে নিবির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম ধান চাষ করায় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় বোরো ধানের ভাল ফলনের সম্ভবনা রয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানায়।
কাজিপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ও ১টি পৌরসভার আয়তায় ১৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো লক্ষ্যমাত্রা ছিল, অর্জিত মাত্রা হয়েছে ১৩ হাজার ১২৫ হেক্টর জমি। সে জমিতে সেচের জন্য এবার উপজেলা বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন প্রকল্পের গভীর নলকূপ ২৬টি, বিদ্যুৎ চালিত ব্যক্তিগত ১,০২৫টি, নদী থেকে এলএলপি বিদ্যুৎ চালিত পাম্প ৬২টি, অগভীর ডিজেল চালিত ৭২৪৯টি, পানাসি প্রকল্পের আয়তায় ৭৪টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে আবাদি বোরো ধান ক্ষেতে সেচ প্রদান করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সঠিক সময়ে ধানের চারা রোপন, নিবিড় পরিচর্যা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যথা সময়ে সেচ দেওয়া, সার সংকট না থাকায় চলতি মৌসুমে ধানের ভাল ফলনের সম্ভবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। সরজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ধান গাছের সবুজের সমারোহে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আবহাওয়া বোরো ধান চাষের অনুকূলে থাকাই যথা সময়ে ধান রোপণ করেছে কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করছেন মাঠ পর্যায়ে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।
আলোক ফাঁদে এবং বোরো ক্ষেতে বাঁশের কুঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁতে পোকা মাঁকড় নিধনে কৃষকদের উৎসাহিত করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। উপজেলার গান্ধাইল ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, আমি প্রতি বছরই বোরো ধান লাগাই। এ মৌসুমে প্রায় ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছি। আবহাওয়া ভালো থাকার কারণে এখন পর্যন্ত ক্ষেতের ধান ভালো আছে। আশা করি শেষ মহুর্তে সব ঠিকঠাক থাকলে ভালো ফলন পাবো বলে আশা করছি।
উপজেলা কৃষিবিদ কৃষি অফিসার মো শরিফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান চাষ হয়েছে। ভাল ফলনের সম্ভাবনার মূল কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে সঠিক সময়ে চারা রোপণের পরামর্শ, প্রদান করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উপজেলায় বোরো ধান ভাল ফলনের সম্ভবনা রয়েছে বলেছেন এই কর্মকর্তা।