আহসানুল হক জুয়েল (নিকলী-কিশোরগঞ্জ), সামছুল ইসলাম (জুড়ী- মৌলভীবাজার) লাভলু শেখ (লালমনিরহাট) : হাওড়ের বিস্তীর্ণ দিগন্ত জুড়ে যেখানে সোনালী ধানের খেলা করার কথা এখন যেখানে ধান মাড়াইয়ের উৎসবে মুখরিত থাকার কথা ছিল সেখানে কেবল কৃষকের হাহাকার। টানা ৬ দিনের ভারী বৃষ্টিতে এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল কেড়ে নিয়েছে কৃষকের সোনালী ধান। অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে পাকা আধা পাকা ধান। যে ধান গোলায় তুলে সারা বছরের অন্নের জন্য নিশ্চিন্ত হওয়ার কথা, সেই ধান এখন পানির নিচে। বুকফাটা আর্তনাদে আকাশ ভারি হচ্ছে কৃষকের। কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাওড় এলাকায় চলছে কৃষকের হাহাকার। অনেক জায়গায় ধান কাটার সময়টুকুও দেয়নি অকাল বন্যায়। আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার চাষিরা। পানিতে ভিজে যাওয়া সেই ধান থেকে চাল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে চরম শঙ্কা।
বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে হাজারো কৃষকের ঘরে বইছে শোকের মাতাম। এিমুখী সংকটের মুখে পড়েছে হাওড় অঞ্চলের কৃষকেরা। আগাম বৃষ্টি, শ্রমিক সংকট ও ধান কাটার যন্ত্রের ঘাটতি এই তিন সমস্যা নিয়ে হাওড় অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। মাঠ ভরা বোরো পাকা ধান ঘরে তোলার আগেই দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে হার্ভেস্ট মেশিন এখন হাওড় অঞ্চলে অকেজো। কৃষকেরা কোমর সমান পানিতে নেমে আধা পাকা ধান কাটতে শুরু করেছে।শ্রমিকের বর্তমান মজুরি প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা। পানিতে তলিয়ে থাকা ধান কাটতে গিয়ে কৃষককে গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত টাকা। বৃষ্টির পানি এবং কৃষকের চোখের পানি মিলে একাকার। রোদের কারণে ধান শুকাতে ও পারছেন না হাওড় অঞ্চলের কৃষকেরা।
ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ২১ হাজার কৃষক। এর মধ্যে ইটনা উপজেলাতেই প্রায় ২ হাজার ৬০০ হেক্টর বোরো ধানের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার হাওড় উপজেলা নিকলী, মিটামইন এবং অষ্টগ্রাম এর নিমাঞ্চল।
নিকলী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ২৮শে এপ্রিল বৃষ্টিপাত ছিল ১৬০ মিলিমিটার। যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। তবে গত বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল সকাল থেকে রোদের দেখামিললেও গতকাল শুক্রবার ১ মে থেকে আবারও বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে , গত কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাওড়াঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ধান কাটতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টিতে জেলার অন্যান্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেতেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওড় অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে ধান উৎপাদনে ব্যয় বাড়লেও, মিলছে না ধানের ন্যায্য দাম। কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় প্রতি বছর তারা বোরো আবাদে লোকসান দিয়ে যাচ্ছেন। এবার ভালো ফলন হলে সে ধকল কিছুটা কাটিয়ে ওঠার আশা করেছিলেন তারা।
কিন্তু তাদের সে আশায় গুড়েবালি। ব্রিধান-৮৮ এর বীজে মিশ্রণের ফলে ঘটেছে ফলন বিপর্যয়। হাওড়ের অনেক জায়গায় তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। এছাড়া ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে এবারও লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের।
কেবল ন্যায্য দাম নয়, একের পর এক সংকটে কাবু হাওড়ের কৃষক। দ্বিগুণ-তিনগুণ পারিশ্রমিক দিয়েও মিলছে না ধান কাটা শ্রমিক। ডিজেল সংকটের কারণে কাটা ধান পরিবহন ও মাড়াইয়েও গুণতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। ব্যাপক দরপতন ও লোকসানের কারণে হাসি নেই হাওড়ের কৃষকের মধ্যে।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বোরো উৎপাদনকারী জেলা কিশোরগঞ্জ।এই জেলাটি ১৩ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। তন্মধ্যে চারটি উপজেলা কে হাওড় উপজেলা বলা হয়। হাওড় উপজেলা গুলো হলো নিকলী, ইটনা, মিঠামইন, ও অষ্টগ্রাম।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানায়, এ বছর জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাওড় অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী-এ চারটি উপজেলায় আবাদ হয়েছিল প্রায় এক লাখ হেক্টর। সেখানকার ১৮ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে এবার আবাদ করা হয়েছিলো ব্রি-ধান ৮৮। এই ব্রি-ধান ৮৮ এর বীজে মিশ্রণের কারণে হাওড়ের প্রায় এক পঞ্চমাংশ কৃষক ফলন বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, হাওড়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকেরা মূলত ধার দেনা ও মহাজনের কাছ থেকে সুদের ওপর ঋণ নিয়ে জমি চাষ করে থাকেন। ধান তোলার সাথে সাথেই তাদেরকে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু ধানের কম দাম তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এই কারণে তারা মহাজনের ঋণ শোধ করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। মহাজনরা বলছে টাকা দিতে না পারলে আমাদেরকে ধান দিয়ে দাও।
সরজমিন হাওড়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আরো জানা গেছে, জেলার হাওড়ের অনেক কৃষক অন্যের জমি পত্তন নিয়ে বোরো আবাদ করেছেন। আবার অনেকে বিত্তশালীদের জমি বর্গা চাষ করেছেন। কৃষকেরা শ্রমিকের মজুরি আর মহাজনের ঋণ শোধ করতে গিয়ে ধান কাটা শুরু হওয়ার পর থেকেই নতুন ধান বিক্রি করছেন। প্রতি মণ মোটা ধানের সর্বোচ্চ মূল্য ৭০০ টাকা। চিকন ধানের দাম সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা। অথচ উৎপাদন ব্যয় পড়েছে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা। তাই বর্তমান বাজারে সর্বোচ্চ দামেও তাদের উৎপাদন ব্যয় উঠবে না বলে জানান কৃষকেরা।
ইটনা উপজেলার মৃধাহাটি গ্রামের জাকির হোসেন জানান, তিনি ৩ খের (৭৫ শতাংশ) জমিতে ব্রিধান-১০২ করেছিলেন। এইটুকু জমি করতে তার খরচ হয়েছে ৫৭ হাজার টাকা। অথচ ৮০০ টাকা মণ ধরে ধান বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ৪২ হাজার টাকা। ১৫ হাজার টাকা তার লোকসান হয়েছে।
জয়সিদ্ধি বড়হাটি গ্রামের কৃষক মন্নান ঠাকুর জানান, চার একর জমিতে তিনি বোরো আবাদ করেছিলেন। মহাজনের ঋণ শোধ করার জন্য ধান কাটার পর খলা থেকেই বিক্রি করে দিয়েছেন। প্রতি মণ ধান মাত্র ৭০০ টাকা করে বিক্রি করেছেন। বলতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন মন্নান ঠাকুর।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, করিমগঞ্জের চামড়াঘাট এলাকার মগড়া নদীর পানি বুধবার (২৯ এপ্রিল) ৬৩ সেন্টিমিটার বাড়লেও আজ দুই সেন্টিমিটার কমেছে। ইটনার ধনু-বৌলাই নদীতে গতকাল ৪৯ সেন্টিমিটার পানি বাড়লেও আজ বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার। একই সময় অষ্টগ্রামের কালনী নদীতে ৬৯ সেন্টিমিটার বাড়লেও আজ বেড়েছে মাত্র ১ সেন্টিমিটার। ভৈরবের মেঘনা নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে।
অপরদিকে গতকাল শনিবার থেকে কিশোরগঞ্জে আবারো বৃষ্টি, এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বেড়েছে নদ-নদীর পানি।
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, গত ৩০শে এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্যে সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে। তবে এখন বৃষ্টিপাত না হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কমবে বলে তিনি জানান।
গতকাল শনিবার হাওড় অঞ্চলের সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে সূর্যের কোন দেখা মিলছে না। বৃষ্টি হচ্ছে এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে নতুন নতুন ধানের জমি তলিয়ে যাচ্ছে। হাওড় অঞ্চলের কৃষকেরা হতাশার মাতাম করছে।
কিশোরগঞ্জ ৫ আসনের এমপি মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ইকবাল গতকাল শুক্রবার নিকলী উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট প্রফেসর কর্নেল (অব:) জিহাদ খান করিমগঞ্জ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এছাড়াও জেলা পর্যায়ের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা গুলো পরিদর্শন করেছেন।
অপরদিকে জেলার বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সদ্য যোগদান কৃত কিশোরগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং কৃষি বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
হাকালুকি হাওড়েপানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন
হাকালুকি হাওড়জুড়ে এখন হাসিমুখে ধান কাটার উৎসব হওয়ার কথা ছিলো। সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষকের আঙিনা ভরে ওঠার কথা। কিন্তু নিয়তির কি নির্মম পরিহাস ! সিলেট বিভাগের দিগন্তজোড়ে ফসলের মাঠ এখন অথৈ পানির নিচে। যে ধান গোলায় তুলে সারা বছরের অন্নের জন্য নিশ্চিন্ত হওয়ার কথা, সেই ধান এখন পানির নিচ। বুকফাটা আর্তনাদে আকাশ ভারি হচ্ছে কৃষকের। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাওড় এলাকায় দেখা গেছে কৃষকের হাহাকার। অনেক জায়গায় ধান কাটার সময়টুকুও দেয়নি অকাল বন্যায়। আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার চাষিরা। পানিতে ভিজে যাওয়া সেই ধান থেকে চাল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে চরম শঙ্কা।
হাকালুকি হাওড় পারের কৃষক খছরূ মিয়া (৫৪) আমজাদ হোসেন (৫৫) আলী হোসেনসহ আরো অনেকে বলেন, "আমাদের সারা বছরের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল আজ পানিতে তলিয়ে গেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আর ধার-দেনা করে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। কিন্তু অকাল বন্যায় তা হারিয়ে গেছে। এখন পরিবারের( মূহে) মুখে কী দেব ? আর ঋণই বা শোধ করব কীভাবে, সেই চিন্তায় (চউকে) চোখে (মুহে) মুখে ঘুম (নাই) নেই।" এখন আমরা কিতা (খরতাম) করতাম রেবা।
টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে শত শত হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়ে গেছে। কৃষকের এই কান্না কেবল এক অঞ্চলের নয়, এটি সারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি স্বরূপ।
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ১শ ৮৭ হেক্টর বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। ফসলও ভালো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ টানা ভারি বর্ষণে ও পাহাড়ী ঢলের কারণে জুড়ী নদী দিয়ে হাকালুকি হাওড়েপানি প্রবেশের কারণে বোরো ধান তলিয়ে যায়। এ পর্যন্ত প্রায় ১৭৪ হেক্টর ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে যাদের ধান পানিতে তলিয়ে গেছে সে সব কৃষকদের কে সরকার প্রনোধনার ব্যবস্থা করবে।
উজানের ঢলে পানি বাড়ছে তিস্তা নদীতে
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীপাড়ের মানুষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারনে তিস্তার পানি শনিবার ভোর থেকে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার ওপর দিয়ে তিস্তা নদী বয়ে যাওয়ায় নদীতে সামান্য পানি বাড়লে গোটা জেলার সব উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। পানি বাড়লে নতুন নতুন এলাকা ডুবে যাবে।
তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া কন্ট্রোল রূম ইনচাজ নুরুল ইসলাম জানান, শনিবার ভোর থেকে পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সকাল ৯টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিস্তা ব্যারেজ এলাকার কফিল উদ্দিন ও জয়নাল জানান, ২দিন ধরে উজানের ঢলে তিস্তার পানি বেড়েছে। তারা জানান, শুরু হলো আতংকের দিন কখন যে ভারতের উজানের ঢলে বন্যায় ভেসে বেড়াই হামরাগুলা সেই চিন্তায় আছি।
তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনো বিপৎসীমার অনেক নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।