মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক (ডিজি) পদে দায়িত্ব সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা, বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পরপর দুইটি সরকারি আদেশে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের এই ঘটনা ব্রির চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৩ মে ২০২৬ তারিখের প্রজ্ঞাপনে ব্রির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমিনুল ইসলামকে মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্ব দিয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এতে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব শূন্যতার অবসান ঘটবে বলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।

তবে এর ঠিক দুই দিন পর, ৫ মে ২০২৬ তারিখে জারি করা নতুন অফিস আদেশে ওই প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়। সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা), কৃষি মন্ত্রণালয় আফসারী খানম-কে ব্রির মহাপরিচালকের শূন্য পদের বিপরীতে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ড. আমিনুল ইসলামকে মহাপরিচালকের পরিবর্তে পরিচালকের রুটিন দায়িত্বে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ব্রির অভ্যন্তরে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এর আগে মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্রি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, বাধা ও মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটে, যা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে দায়িত্ব বদলের আদেশ জারি হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

ব্রির একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত করছে এবং গবেষণা কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এই প্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীল নেতৃত্ব না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ব্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব সংকট নিরসনে দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্থায়ী সমাধান জরুরি। অন্যথায় চলমান অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে এবং তা প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।