কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা: কলারোয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের চোখে মুখে হতশার ছাপ। প্রতিকূল আবহাওয়া আর শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বাজারে ধানের দামের তুলনায় শ্রমিকের মজুরি বেশি। এবার ধানে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও উঠবে না কৃষকের। এতে করে ধান চাষীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। তবু ও ব্যাস্ত সময় পার করছেন তারা কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে।
সরেজমিনে কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে চাষীদের সাথে আলাপ কালে জানা যায়,১বিঘা জমির ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠবে না। বিঘা প্রতি ধান উৎপাদনে চাষ করে ঘরে তুলতে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। আর ধান উৎপাদন হয় ২০মণ। প্রতি মণ ৮০০/৯০০টাকা দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। সমুদয় হিসেব করে দেখা যায় খরচের টাকা ও উঠছে না। এতে করে ধান চাষীদের মুখে হাসির পরিবর্তে হতাশার ছাপ দেখা যাচ্ছে।
কলারোয়া উপজেলার শাকদাহ গ্রামের চাষি শাহজুল জানান, এবার আমি ৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। উৎপাদন খরচ ও উঠবে না। ভুট্টো নামের আর এক চাষী বলেন, আমার এবার চাষে লাভবান হওয়া তো দূরের কথা আসল থেকে ঘাটতি যাবে। এই আবহাওয়ায় ধান ঘরে তুলতে পারবো কিনা সন্দেহ হচ্ছে। কলাটুপী গ্রামের কৃষক নায়েব আলী আক্ষেপ করে বলন, ঘাম ঝরিয়ে ধান ফলালাম কিন্তু এখন শ্রমিকের মজুরি দিতে গিয়ে পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে। এক মণ ধান বেচে এক জন মুজুরি ও হচ্ছে না।
এদিকে স্থানীয় শ্রমিকের অভাব থাকায় বাইরের জেলা থেকে আসা শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এবার শ্রমিকের টান পড়ায় মজুরি ১ হাজার টাকার নিচে নামছে না। অনেক জায়গায় পাকা ধান মাঠে পড়ে থাকলেও শ্রমিকের অভাবে কাটতে দেরি হচ্ছে। আবার শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন চাষীরা।
কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক জানান, উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে ১২৩৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু বাজারে দাম কম হওয়ায় এবং শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় চাষি।