কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা: আধুনিক কৃষিতে যেখানে কীটনাশক ও রাসায়নিকের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে, সেখানে ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষ্মী কুন্ডু গ্রামের কৃষক কহির আলী খান। সম্পূর্ণ কীটনাশকমুক্ত পদ্ধতিতে পটল চাষ করে ইতোমধ্যে সাফল্যের মুখ দেখছেন তিনি।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার আগেই ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কহির আলী। হাতে একটি ফুল নিয়ে আরেকটি ফুলের সাথে স্পর্শ করাচ্ছেন তিনি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, পটলের জালিতে পুরুষ ফুলের পরাগ স্ত্রী ফুলে ছোঁয়ালে ফলন ভালো হয় এবং ফুল নষ্ট হয় না। এই পদ্ধতিকে তিনি প্রাকৃতিক পরাগায়ন হিসেবে ব্যবহার করছেন।
আধুনিক যুগে এমন পদ্ধতি কার্যকর কিনা জানতে চাইলে কহির আলী বলেন, এখন সবকিছুতেই বিষ। তাই আমি কীটনাশক ছাড়া সবজি ফলানোর চেষ্টা করছি। আল্লাহর রহমতে অনেকটাই সফল হয়েছি।
পোকামাকড় দমনে তার রয়েছে নিজস্ব উদ্ভাবনী কৌশল। ক্ষেতের মধ্যে প্লাস্টিকের কৌটা ব্যবহার করছেন, যার ভেতরে বিশেষ প্রলোভন দিয়ে পোকা আটকানো হয়। এছাড়া হলুদ রঙের আঠাযুক্ত কাগজ ব্যবহার করছেন, যেখানে পোকা বসলে আর উড়তে পারে না—ফলে রাসায়নিক ছাড়াই পোকা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে।
তিনি জানান, মাত্র ছয় কাটা জমিতে পটল চাষ করে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ৩০ হাজার টাকার পটল বিক্রি করেছেন। চলতি মৌসুমে এখান থেকে কয়েক লাখ টাকার পটল বিক্রির আশা করছেন তিনি।
কহির আলী আরও বলেন, আমি চেষ্টা করি সব ফসলই কীটনাশক ছাড়া উৎপাদন করতে। এতে খরচ কম, আর মানুষের জন্যও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হয়।