আবু সাঈদ, চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: কুমিল্লার চান্দিনায় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো সেচ ও সার ব্যবহারের ফলে মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহে কৃষকদের মাঝে খুশির আমেজ বিরাজ করছে। ভালো ফলনের কারণে গত বছরের লোকসান পুষিয়ে এ বছর লাভের আশা দেখছেন তারা।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমিতেই ধান পেকে গেছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধান কাটা শেষ। এখন চলছে ধান রোদে শুকিয়ে গোলায় তোলার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

কৃষকরা জানান, এবার রোগবালাই তুলনামূলক কম ছিল এবং সেচব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকায় ধানের শীষ ভালোভাবে ভরাট হয়েছে। ফলে বিঘাপ্রতি ফলন গত বছরের চেয়ে বেশি হয়েছে।

মেহার গ্রামের কৃষক সোহাগ বলেন, “গত বছর আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছিলাম। কিন্তু এ বছর জমিতে ধান দেখে মন ভরে গেছে। দাম ঠিকঠাক পেলে ভালো লাভ হবে।” কংগাই গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান জানান, শ্রমিক সংকট কিছুটা থাকলেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটার কাজ শেষ করেছেন। এখন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালোভাবে শুকিয়ে বিক্রি করবেন। আলীকামোড়া গ্রামের কৃষক হোসেন মোল্লা বলেন, “শুরুর দিকে ঝড়ের প্রভাব থাকায় লোকসানের আশঙ্কা ছিল। আল্লাহর রহমতে এখন আবহাওয়া ভালো থাকায় দ্রুত ধান শুকিয়ে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো বীজতলা প্রস্তুত, সুষম সার প্রয়োগ এবং নিয়মিত পরিচর্যার কারণেই এ সাফল্য এসেছে। বাজারে ধানের দাম সহনীয় থাকলে কৃষকদের মুখে হাসি আরও প্রসারিত হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোরশেদ আলম জানান, চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ১৬৮ হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে এবং ফলনও আশাব্যঞ্জক। এ বছর সরকারি ভাবে ১ হাজার ১২৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।