প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজ পরিবারের সদস্য ও খালা-খালু-মামা-মামীসহ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান।

তিনি বলেন, এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামায আদায় করেন এবং রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ বিদেশি কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে যান প্রধানমন্ত্রীসহ তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ছোট ভাই মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শামিলা রহমান, দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান উপস্থিত ছিলেন। শেরেবাংলা নগর থেকে গুলশানের বাসভবনে ফিরে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় পর এটি দেশে তারেক রহমানের প্রথম ঈদ। গত ১৭ বছর তিনি লন্ডনে ঈদ উদযাপন করেছেন। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি পরিবারসহ বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা: পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে করতে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া-সহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ একে একে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

দল-মত নির্বিশেষে সকলে মিলে দেশ গড়ার প্রত্যয়: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন। বহু বছর পর দেশের মাটিতে ঈদ উদযাপন করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন। দেশের মানুষ ভবিষ্যতে আরও শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘœ পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, জনগণ যে বাংলাদেশ দেখতে চায়, সেই প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাবে। এ লক্ষ্য পূরণে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকলে নির্বাচিত সরকার দেশ গঠনের কাজে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এগিয়ে যাবে। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। এ সময় তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।