মহান স্বাধীনতার মাস মার্চের ১৯তম দিবস আজ বৃহস্পতিবার। ঊনিশশ’ একাত্তরের এই দিনটি ছিল শুক্রবার। সেদিন শেখ মুজিবুর রহমান তার সহকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় প্রেসিডেন্ট হাউজে যান। দীর্ঘ বৈঠক শেষে বের হয়ে নিজ বাসভবনে যান। শেখ মুজিব তার বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে আরো কিছু সময়ের প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি জেনারেল ইয়াহিয়া বাস্তবতাকে অনুধাবন করবার চেষ্টা করছেন। তার বিপরীতে কিছু হলে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাঞ্জাবী ও অন্যান্য অবাঙালি অফিসাররা গাজীপুরের জয়দেবপুরস্থ সেনা ছাউনির বাঙালি অফিসার ও সিপাহীদের অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দেয়। বাঙালিরা সে নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে স্ব স্ব অস্ত্র হাতে নিয়ে নিজেদের অবস্থানে প্রস্তুত হতে থাকে। মূলত এদিন স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা ঘটে। পাকিস্তানী সৈন্যরা পাল্টা হামলা চালালে বাঙালি সৈন্যরা যতটা সম্ভব অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ছাউনি থেকে বেরিয়ে যান এবং যুদ্ধ চালাতে থাকেন। সারা রাত ধরে যুদ্ধ চলার পরদিন সকাল থেকে তা গোটা জয়দেবপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরের পর গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় বাঙালি সৈন্যরা যুদ্ধ বন্ধ করেন। এদিনের যুদ্ধে ১২ থেকে ২০ জন বাঙালি সৈন্য নিহত ও আরো অনেক সৈন্য আহত হয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এই দিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তৎকালীন ১৬ বেঙ্গল রেজিমেন্টের উদ্যোগে ঢাকা-ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর সড়কের মিলনস্থল চান্দনা চৌরাস্তায় স্মারক ভাস্কর্য ‘জাগ্রত বাঙালি' নির্মাণ করা হয়। এতে দেখানো হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধার এক হাতে রাইফেল আর অন্য হাতে গ্রেনেড। এই ভাস্কর্যটি এখনো দূর-দূরান্তের লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। জয়দেবপুরের গুলীবর্ষণের খবর ঢাকা শহরে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। আমজনতা লাঠি-সোঁটা নিয়ে আকাশ-মাটি বিদীর্ণ করা শ্লোগানে রাজপথে নেমে আসে।

সন্ধ্যা নাগাদ বহু মিছিল ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আসে। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সামরিক জান্তার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, ‘ভুল, এটা ভুল, জাগ্রত বাঙালি জাতিকে বুলেট বেয়নেট দিয়ে দাবিয়ে রাখা যাবে না।' তিনি সাংবাদিকদের বললেন, ‘আপনারা নিজেরাই দেখুন। আমার শ্যামল সবুজ সোনার বাংলা কিভাবে শ্মশান হচ্ছে। জান্তার গণতন্ত্রের নমুনা দেখুন।