ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ এর উদ্যোগে চিকিৎসকদের সম্মানে গতকাল সোমবার বর্ণাঢ্য রমযান কনফারেন্স ও গ্র্যান্ড ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই সম্মেলনে চিকিৎসকদের মানবসেবার ভূমিকা, স্বাস্থ্যখাতের চ্যালেঞ্জ এবং সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন এনডিএফ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ-এর সভাপতি ও বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. এমজি ফারুক হোসেন। সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন এনডিএফ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ-এর সেক্রেটারি ও বিশিষ্ট ইএনটি সার্জন ডা. মারুফ শাহরিয়ার। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনডিএফ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরীর আমীর ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল।

রমযান কনফারেন্সের মূল আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার প্রধান মহাদ্দিস মুফতি ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার। তিনি রমযান ও মানবসেবার তাৎপর্য বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং চিকিৎসকদেরকে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে ফ্যাসিবাদ পরবর্তী সমাজ সংস্কার ও পুনর্গঠনে চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি স্বাস্থ্যসেবা খাতে নীতিমালা প্রণয়ন এবং চিকিৎসকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

এনডিএফ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম চিকিৎসকদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ে সর্বদা সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক শুধু রোগ নিরাময়কারী নন, বরং সমাজ বিনির্মাণেও তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। নূরুল ইসলাম বুলবুল তার বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবে চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, চিকিৎসকদের উচিত বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করা।

এনডিএফ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মহতী অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় এক হাজার চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা শেষে গ্র্যান্ড ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।