সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেছেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ’র পক্ষে রায় দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি ৫১ শতাংশ মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। বিএনপি গণভোটে হ্যাঁঁ’র পক্ষে ক্যাম্পেইন করে এখন যদি ৫১ শতাংশের ক্ষমতা বলে ৭০ শতাংশের মতামতকে বাতিল করতে চায় তাহলে সেটা হবে জাতির সাথে চরম প্রতারনা। যারা গণভোট মানবে না তারা মুনাফেক। গতকাল রোববার দুপুরে বগুড়ায় ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত “জনরায় উপেক্ষা নয়-গণভোট বাস্তবায়নে সরকারের দায়বদ্ধতা” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া শহর শাখার সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট জোবাইদুর রহমান বাবু, এ্যাডভোকেট সাকিল আহম্মেদ, বগুড়া বারের আইনজীবী এ্যাডভোকেট আল-আমিন প্রমুখ।

শিশির মনির বলেন, দীর্ঘ ৫৬ বছর সঠিক নেতৃত্বের অভাবে বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনি। এই সময়ে যে যার মত করে সংবিধান কাটা-ছেঁড়া করায় বারবার মানুষকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। অবশেষে চব্বিশের ৫ই আগস্ট তরুণরা বুকের রক্ত দিয়ে নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন জন্ম দিয়েছে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে গঠিত সরকার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সঠিক পথে এগুতে পারছে না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আস্থার সাথে কোন কাজই করতে পারছে না। মনে হচ্ছে সরকার কোন এক অদৃশ্য শক্তির অচলাতয়নে বাঁধা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতির সামনে অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে সেইসব প্রতিশ্রুত পূরণ করতে পারছেন না। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারলে বর্তমান সরকারের জন্য অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের পরিণতি অপেক্ষা করছে।

শিশির মনির বলেন, আমরা সতর্ক করছি। যদি বাস্তবতা বুঝতে না চান তাহলে কিছুই করার নাই। আমরা সংসদের ভেতরে এবং বাইরে প্রতিটি ভালো কাজে সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু যদি গণভোট না মানেন, যদি জনগণের রায়কে শ্রদ্ধা না করেন তাহলে সংসদে এবং সংসদের বাইরে সবখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। রাজধানীর বায়তুল মুকাররমের উত্তর গেইটে যেই বিক্ষোভের সূচনা হয়েছে তারা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। সরকারের নীতি নির্ধারকদের উদ্দেশ্যে শিশির মনির বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে সরকারের লোকেরা অশ্বডিম্ব বলে উপহাস করছেন। এটা যদি অশ্বডিম্ব হয় তাহলে এই অশ্বডিম্ব দিয়ে গণভোট করলেন কেন? জনগণকে হ্যাঁ তে ভোট দিতে বললেন কেন? যারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অশ্বডিম্ব বলছেন তারা আসলে কান্ডজ্ঞানহীন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে মার্শাল ল জারি করে সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করেছেন। তিনি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানে সংযোজন করেছেন। তিনিই প্রথম গণভোট দিয়েছিলেন। সেই গণভোটে কমপক্ষে ১৯টি দফা একত্রিত করে জিয়াউর রহমানের নীতি ও কর্মপন্থার প্রতি সমর্থনের জন্য পক্ষে জনগণকে হ্যাঁঁ না ভোট দিতে বলেছিলেন। সেদিন ১৯টি বিষয়কে একটি মাত্র প্রশ্নের মাধ্যমে গণভোট হয়ে থাকে তাহলে এবার ৪টি প্রশ্নে হ্যাঁ না ভোটে সমস্যা কোথায়? বিএনপির প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে শিশির মনির বলেন, বিএনপিকে যেই ৫১ শতাংশ জনগণ ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে তারা কি ৩১ দফা পড়ে, বুঝে ধানের শীষে ভোট দিয়েছিলেন? যদি ভোটাররা ৩১ দফা বুঝে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে তাহলে ৭০ শতাংশ মানুষও গণভোটের ৪টি প্রশ্ন বুঝেই হ্যাঁঁ ভোট দিয়েছেন। এছাড়া যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন তারা হ্যাঁর পক্ষেও ভোট দিয়েছেন। তাহলে বিএনপি কী নিজের লোকদেরকেও বিশ্বাস করতে চায় না? তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, রাজনৈতিক প্রশ্নের সমাধান না করলে আপনি যতই ভালো কাজ করুন কোন কাজে আসবে না। আপনার প্রতিটি ভালো কাজের আমরা প্রশংসা করবো কিন্তু গণভোটের রায়কে সম্মান না জানালে আপনাকে অভিনন্দন জানাতে পারবো না। শিশির মনির পরে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা এবং জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।