রাজনীতিতে দেয়াল লিখন খুব পুরোনো এক শিল্প। স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ গরম করার আগে দেয়াল গরম করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি ছাত্রদলের ‘গুপ্ত’ দেয়াল লিখন রাজপথ গরম করার চেয়ে মানুষের পেটে খিল ধরিয়ে দিচ্ছে বেশি। কারণ? তাদের স্লোগানে স্লোগানে ‘গুপ্ত’ থাকলেও দেয়াল লিখনের সময় ডিকশনারিটা বোধহয় সাথে নেই। আর এই ভুল বানানে মজা নিচ্ছে ছাত্রশিবির।

বিভিন্ন কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দেয়াল লিখনে বানান ভুলের ছড়াছড়ি, গভীর রাতে, অন্ধকারের আড়ালে—লেখা হচ্ছে ‘গুপ্ত রাজনৈতিক নিষিদ্ধ চায়’। সকাল হতেই দেখা যাচ্ছে দেয়ালে নতুন নতুন বার্তা—কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই বানান ভুল।

অনেকে বলছে, দেয়াল লিখনের সময় ছাত্রদলের এমন ব্যাকরণ বিসর্জন মেনে নেওয়া যায় না। তাদের উচিৎ ডিকশনারিটা সাথে রাখা। তাহলেই ভুলভাল বানান থেকেই রেহাই পাবে।

দেয়াল লিখনে ছাত্রদলের এমন ব্যাকরণ বিসর্জনের এই সুযোগটাই লুফে নিয়েছে ছাত্রশিবির। ফেসবুক ছুড়ে এই ভুলগুলো নিয়ে রীতিমতো উৎসবে মেতেছে। কেউ লিখছে— ‘ভাইদের কি প্রাইমারি স্কুলিং বাকি আছে?’, কেউ আবার বলছে— ‘আন্দোলন পরে করেন, আগে বর্ণপরিচয়টা শেষ করেন।’

ভুল বানান নিয়ে সমালোচনার পর এবার কৌশল বদলাতে দেখা গেছে ছাত্রদলের। দেয়াল লিখনে বাংলা নয়—এবার ইংরেজিতে লেখতে দেখা যাচ্ছে। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে দেখা গেছে, ‘গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই’—এই বার্তাটি লেখা হয়েছে ইংরেজিতে। ভুল বানান নিয়ে বিতর্কের পর দেয়াল লিখনের ভাষায় এসেছে এই পরিবর্তন।

গলাচিপা সরকারি কলেজের দেয়ালে ‘হাদি ব্যবসা নিপাত যাক, ওসমান হাদি বিচার পাক, গুপ্ত রাজনীতি ক্যাম্পাসে চলবে না’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়াল লিখনের ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকে এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

‎সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, শিবির মানেই পাকিস্তানি, গুপ্ত রাজনীতি ক্যাম্পাসে চলবে না, হাদির জায়গায়, হাতি ব্যবসায়ীরা নিপাত যাক সহ নানা ধরনের স্লোগান। তাদের দেয়াল লিখনের অসংখ্য ভুল মার্ক করে শিবিরের কর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে।

‎ তবে, ‘গুপ্ত’ বানান লিখতে গিয়ে ছাত্রদলের যেন লেজেগোবরে অবস্থা। দেয়ালে স্প্রে দিয়ে লেখার সময় ‘গুপ্ত’ শব্দের প্রথম বর্ণ ‘গ’-এর ওপর একটি লম্বা পূর্ণমাত্রা ব্যবহার করেন তারা। কিন্তু বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী, ‘গ’ একটি অর্ধমাত্রার বর্ণ। তাই অর্ধমাত্রার বর্ণের ওপর এভাবে পূর্ণমাত্রা ব্যবহার করা ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ এবং এটি বর্ণের মূল গঠনকে বিকৃত করে।

তাই ছাত্রদলের এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে ভাষাগত ভুল, সচেতন মহলের নজরে আসার সাথে সাথেই বেশ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ক্যাম্পাসেও এ নিয়ে চলছে সমালোচনা। ছাত্রদলের কর্মীদের ‘গুপ্ত’ লেখার এই ‘লুপ্ত’ ভাষাগত জ্ঞান তাদের হাসির পাত্রে পরিণত করছে।

ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, দেয়ালে স্লোগান লিখে জনমত তৈরি করা একটি ভালো উদ্যোগ। তবে, সেখানে বর্ণমালার সঠিক প্রয়োগ থাকা জরুরি। একটি ছাত্র সংগঠনের শিক্ষিত নেতাকর্মীরা এভাবে ভুল বানান লিখলে তা মেনে নেয়া যায় না।