সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে বিএনপি নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির দেওয়া বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গত শনিবার এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।

প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে বিএনপি নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান ও পবিত্র ইবাদত যাকাতকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে চাঁদাবাজির মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার এই বক্তব্য শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং এটি দেশের কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হানার শামিল। যাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম, যা সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অসহায় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার মহান বিধান। পক্ষান্তরে, চাঁদাবাজি হলো জুলুম, অন্যায় ও অপরাধের প্রতীক। এ দুটিকে এক কাতারে আনা বা চাঁদাবাজিকে কোনোভাবে উত্তম হিসেবে উপস্থাপন করা চরম দায়িত্বহীনতা ও ধৃষ্টতার পরিচায়ক। আমি তাঁর এই বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জুলুম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অবসান চেয়ে আসছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল- বাংলাদেশে ন্যায়ভিত্তিক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এখনো বিভিন্ন মহল থেকে চাঁদাবাজিকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য সমাজে অপরাধপ্রবণতাকে উৎসাহিত করে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই নিলোফার চৌধুরী মনির উচিত অবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়ে তাদের সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। তিনি প্রশাসনের প্রতি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান।

হেফাজতে ইসলাম : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেছেন, যাকাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত, যা সমাজে সাম্য, সহমর্মিতা ও দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটা আল্লাহর পবিত্র বিধান। এই পবিত্র বিধানকে কেন্দ্র করে কটুক্তি বা বিদ্রূপ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন বক্তব্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। হেফাজত মহাসচিব বলেন, বিএনপির মহিলা নেত্রী নিলুফার মনির যাকাত নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইবাদতকে অবমাননা করার অধিকার দেয় না। এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভ্রান্তি, বিদ্বেষ ও অশান্তির জন্ম দেয়।

আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, যাকাতের মতো মহান ইবাদত সম্পর্কে সম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করা সবার দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার বক্তব্যের জন্য দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করে তা প্রত্যাহার করা এবং মুসলমানদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

হেফাজত মহাসচিব বলেন, আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাই ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় সংযম, শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখুন, যাতে সমাজে সম্প্রীতি ও শান্তি অটুট থাকে। আলেমসমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা যেন মাঠে নামতে বাধ্য না হয়।