গণভোটের রায় বাস্তবায়ন জাতীয় সংসদ তথা সংবিধান সংস্কার পরিষদের উপর ন্যাস্ত ছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ থেকে শুরু করে চলতি অধিবেশনে এ পর্যন্ত যা হয়েছে তাতে জনগণ হতাশ। ইতিমধ্যে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ১১টি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। শপথকালীন সময় থেকে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যগণ সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে বিরত থাকার কারণে এই সংকটের শুরু হয়। অবৈধ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্তহীন প্রতারণা বলে জুলাই জাতীয় সনদকে বিএনপি সরকার অবমূল্যায়ন করেছে। সংবিধানের অপব্যাখ্যা দিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার অনীহা দেখাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। সুতরাং জনগণ যখন কোন রায় দেয় (গণভোট) তা রাষ্ট্রের যে কোন প্রতিষ্ঠানের (সংসদ বা আদালত) সিদ্ধান্তের চেয়ে নৈতিকভাবে ঊর্ধ্বে থাকে। এখানে সংসদ বা আদালত হচ্ছে গঠিত শক্তি আর জনতার রায় হচ্ছে গাঠনিক ক্ষমতা। এখানে জনতার রায়ই শেষ কথা। গতকাল বুধবার খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আমীরে মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। মূল বক্তব্য প্রদান করেন খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।

বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। আপনারা (সরকার) এর সমাধান করুন। আমরা ভেবেছিলাম রাজনীতিতে পরমতসহিষ্ণুতা হবে; কেউ কারো উপর হামলা করবে না, আক্রমণ করবে না; মারামারি হবে না। মানুষ ডেমোক্রেটিক রাইটস নিয়ে কথা বলবে, সংবিধানের আর্টিকেলে দেওয়া স্বাধীনতা এনজয় করবে। সেই বাংলাদেশ আমরা ফিরে পাব। আর এখনই আপনি বিরোধী দলের উপর বাধা দিচ্ছেন। অফিসে হামলা করছেন, ভাংচুর করছেন। চট্টগ্রামে ইসলামী ছাত্র শিবিরের একজন নেতার পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন। রগ নাকি শিবির কাটে। পত্রিকায় ছবি এসেছে তার পায়ের রগ আপনারা কেটে দিয়েছেন। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, বহু কষ্টের মধ্য দিয়ে অর্জিত জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পার্লামেন্ট হয়েছে। পার্লামেন্ট হচ্ছে রাজনীতির বিতর্কের জায়গা। আসুন, পার্লামেন্টে এটা সমাধান করি।

এসময় বক্তারা বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের অর্থ হলো জনগণের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের স্বার্থে নয়, বরং রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ সরাসরি কার্যকর করুন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে নির্ধারিত সময়ে কাজ সমাপ্ত করুন। গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫ এর কার্যকারিতা যে কোন মূল্যে সচল করুন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি না মানলে জনগণ আবারো গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে উক্ত বিষয়ের উপর ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল।

আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, খেলাফত মজলিস নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুল মাজেদ আতাহারী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, বিডিপির সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নাঈম, খেলাফত মজলিস যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুফতি আবুল হাসান এমপি, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-বিকেএম’র সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ ফায়সাল, লেবার পার্টির দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ডক্টরস সোসাইটি অব বাংলাদেশ সভাপতি ডা. আবদুল্লাহ খান, ঢাকা সিটি কলেজ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী, খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তর সভাপতি মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাহীর অন্যান্য সদস্য সহ বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও পেশাজীবীবৃন্দ।