বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বাকি মামলাগুলো প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এসব তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ না থাকায় সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয় এবং এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। জামায়াতের ক্ষেত্রে এ সংক্রান্ত পৃথক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৬ সালের ৫ মার্চ রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশের জন্য জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্র, এজাহার, চার্জশিট ও পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে মামলা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক কিনা এবং জনস্বার্থে তা চালানোর প্রয়োজন আছে কি নাÑতা যাচাই করে সুপারিশ করে থাকে।

পরে এসব সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মামলা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অবশিষ্ট মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা ও গুমের ১৮৫৫টি মামলা হয়েছে

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন জেলার থানায় মোট ১৮৫৫টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা ৭৯৯টি এবং অন্যান্য ধারায় মামলা হয়েছে ১ হাজার ৫৬টি বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় দেশের বিভিন্ন জেলার থানায় মোট ১৮৫৫টি মামলা রুজু হয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে হত্যা মামলার সংখ্যা ৭৯৯টি এবং অন্যান্য ধারার অধীনে মামলা রুজু হয়েছে ১ হাজার ৫৬টি। এরইমধ্যে ১৫৮টি (হত্যা মামলা ৪৮টি এবং অন্যান্য মামলা ১১০টি) মামলায় তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং এসব মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাকি ১ হাজার ৬৯৭টি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক মামলার তদন্ত একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হলেও দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন দাখিলের লক্ষ্যে পুলিশ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যাতে বিচারের সময় কোনো আইনি দুর্বলতা না থাকে।

আইনমন্ত্রী বলেন, জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আদালতের এখতিয়ারাধীন। তবে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা প্রতিটি মামলায় যুক্তি উপস্থাপন করে সক্রিয়ভাবে আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংগঠিত নৃশংস অপরাধের শিকার ব্যক্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোরকে ন্যায়বিচারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে, গুম করেছে, নির্যাতন করেছে, পঙ্গু করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার নিরলস কাজ করছে।