চট্টগ্রাম ব্যুরো ও সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসীদের নির্মূলের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুর আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এলাকা বা অভয়ারণ্য হিসেবে থাকবে না। শুধু জঙ্গল সলিমপুর নয়, এর আশপাশের বেতুয়া ও চা-বাগান এলাকাতেও সন্ত্রাসীদের যেকোনো তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
রোববার সকালে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সন্ত্রাসী কর্মকা-, চাঁদাবাজি ও অপরাধচক্রের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমান সরকার এ অবস্থার অবসান ঘটাতে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে যৌথ বাহিনীর অভিযানে এলাকায় সন্ত্রাসীদের গড়ে তোলা সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের আশপাশে অবস্থিত বেতুয়া ও চা-বাগান নামের দুটি পাহাড়ি এলাকাতেও সন্ত্রাসীদের আনাগোনার তথ্য পাওয়া গেছে। তাই পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে এসব এলাকাও সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে। দেশের কোথাও কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় নিতে দেওয়া হবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে র্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্পে হামলা এবং বুলডোজার দিয়ে স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস যারা দেখিয়েছে, তাদের পেছনের শক্তি ও মদদদাতাদের খুঁজে বের করা হবে। সন্ত্রাসীদের সর্বশেষ আস্তানাও নির্মূল করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সারা দেশে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই চারটি বিষয়কে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে এসব অপরাধ নির্মূলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জুয়া নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৮৬৭ সালের জুয়া আইন দিয়ে বর্তমান সময়ের অনলাইন বেটিং, ভার্চুয়াল জুয়া ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে আগামী সংসদ অধিবেশনে নতুন আইন বা সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে হাজার হাজার মাদক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে। এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হবে।
কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনের কিছু সুযোগ নিয়ে অনেক কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় কিশোর অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার আনা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। প্রকৃত বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। যাদের পুনর্বাসনের প্রয়োজন হবে, তাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের এলাকায় সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, সরকারি স্থাপনা নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়েও কাজ চলছে।
গণমাধ্যম ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সন্ত্রাস, মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।