শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি, ভোটকেন্দ্র দখল, জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির আমলের প্রথম নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা আওয়ামী লীগকেও হার মানিয়েছে।” তিনি বলেন, বিএনপি আগের শাসনামলের মাগুরা মার্কা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে। তিনি বলেন, নির্বাচনে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার চিত্র মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ার পরও সিইসি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে জাতির সঙ্গে তামাশা করেছেন। তিনি প্রহসনের এই নির্বাচনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবি জানান।
গণভোট প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছে গণভোট জয়যুক্ত হলে তারা অক্ষরে অক্ষরে মানবে, কিন্তু সরকার গঠন করে তারা গণভোটের আদেশ বাতিল করছে! বিএনপির এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গেও চরম বেঈমানি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা যদি গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে নিতে না পারে, তবে তাদেরকে সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হবে তারা গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেয়নি। তাঁরা যদি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে থাকেন, তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে যেভাবে শপথ নিয়েছেন, একইভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করতেন। সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, ৫ কোটি জনগণ গণভোটে “হ্যাঁ” জয়যুক্ত করে বিএনপির সেই নোট অব ডিসেন্ট বাতিল করে দিয়েছে। এজন্য বিএনপি ৭০ শতাংশ জনগণের রায় উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। বিএনপি জুলাই সনদের বিপক্ষে গিয়ে হাসিনার তৈরি কালো আইন বহাল রাখতে কাজ করছে। তিনি বিএনপিকে হুঁশিয়ারি করে বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের পরিচালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মাহফুজুর রহমান ও জনাব ইয়াছিন আরাফাত, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য আতাউর রহমান সরকার ও মুহিবুল্লাহ, মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী অফিস সেক্রেটারি মুজিবুর রহমানসহ মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড়-বিজয়নগর গোলচত্বর গিয়ে শেষ হয়। এসময় হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী ভোট ডাকাতি ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবি জানান। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।