সাতকানিয়ায় বসতবাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

গত ৩ এপ্রিল উপজেলার কেরানীহাটস্থ সী ওয়ার্ড রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ধর্মপুর ৫নং ওয়ার্ডের চাঁদের পাড়া মৃত আবদুল হামিদের ছেলে মোহাম্মদ শাহ আলম।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, তারা তিন ভাই ব্যবসার কারণে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করেন। গত ২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে একদল সন্ত্রাসী তাদের বসতবাড়িতে তাণ্ডব চালায়। সে সময় বাড়িতে শুধুমাত্র নারী সদস্যরা অবস্থান করছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, সাতকানিয়া উপজেলার ধর্মপুর চাঁদের পাড়া এলাকার মৃত ছিদ্দিক আহমদের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং নৌকা প্রতীকের দু’বারের চেয়ারম্যান ইলিয়াছ চৌধুরীর ইন্ধনে একই এলাকার ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে ফরিদ মিয়া, ভোলা চক্রবর্তী, আশীক, শহিদ উদ্দিন, সুমন, হানিফ, সাজ্জাদ, মামুন, আমির হোসেন, ফয়সাল, দেলোয়ার, আবদুল মন্নান, ইফতেখার ও মিজানসহ আরও কয়েকজন ছিলেন বলে দাবি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যায় হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশের আগে আশপাশের ঘরগুলো বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেয়, যাতে কেউ এগিয়ে এসে সহায়তা করতে না পারে। পরে তারা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

এ সময় তার বড় ভাই আকতার আহমদের স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং ছোট ভাই মোরশেদ আলমের স্ত্রী তছলিমা আকতারকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা ঘরবাড়ি তছনছ করে নগদ এক লাখ টাকা ও প্রায় ১৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।

শাহ আলম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। কিন্তু এ ঘটনার পর আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। পুরো এলাকায় এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।”

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।