বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোঃ মোবারক হোসাইন বলেছেন, “গণভোটের ৭০ শতাংশ রায়কে অস্বীকার করে বিএনপি প্রমাণ করেছে তারা জনগণের শক্তিতে নয়, বরং কারচুপিতে বিশ্বাসী। জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করার এই অপচেষ্টা চরম নিন্দনীয়।”

আজ শুক্রবার বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মোবারক হোসাইন বলেন, “জুলাই বিপ্লবে ১৪ শতাধিক মানুষ শাহাদাত বরণ করেছেন, কিন্তু তাদের সঠিক তালিকা ও যথাযথ উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নানা দাবি করলেও বাস্তবে শহীদ পরিবারদের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছুই করা হয়নি।” তিনি দাবি করেন, ডা. শফিকুর রহমান শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং আহত-পঙ্গুদের নিয়েও কাজ করছেন।

তিনি আরও বলেন, “আমরা শহীদদের স্মরণে স্মরণিকা তৈরি করেছি। যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির কাছে তুলে ধরা আমাদের অঙ্গীকার।” তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলেও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলো তাদের অবস্থান থেকে সরে গেছে, যা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল।

তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হলে দল জনগণকে সাথে নিয়ে দাবি আদায়ে রাজপথে নামবে।

ওয়ার্ড সভাপতিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নৈতিকভাবে দৃঢ় নেতৃত্ব গড়ে তোলা জরুরি। “একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি নৈতিকভাবে দুর্বল হন, তবে তা সমাজে অস্থিরতা ও অন্যায় বাড়িয়ে দেয়। তাই সত্যনিষ্ঠ ও নীতিবান নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে,”—বলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি যোগ করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলেও নিজেদের পক্ষ থেকে কোনো অন্যায় করা হবে না।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা শাখার নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবু সাদিক বিশ্বাস, জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবুজাফর সিদ্দিক, সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, গোলাম কুদ্দুস, অধ্যাপক সামসুজ্জামান জামান, মাওলানা রেজাউল করিম, অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম ও জেলা প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সম্মেলন শেষে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করা হয়।