জামায়াতের কর্মী সাওদা সুমীকে গ্রেফতাদের প্রতিবাদে ও তার সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে দলটির মহিলা বিভাগ।
বুধবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানবন্ধনে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারী নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যাসহ শতশত নেতাকর্মী অংশ নেন।
মানববন্ধনে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা সংবিধানে আশ্রয় নিচ্ছে বাববার কিন্তু যে নির্বাচন হলো সেটা তো সংবিধানের বাইরে, সেটা কেন মেনে নিলো ? অর্থাৎ যেটা আমার পক্ষে সেটা আমি মানি, যেটা আমার পক্ষে না সেটা আমি মানি না- এই দ্বীমুখী নীতি তাদেরকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে।
সহকারী সেক্রেটারী সাঈদা রুম্মান বলেন, রক্তাক্ত জুলাইয়ের দীর্ঘ আন্দোলনের পর ৫ আগষ্ট পরবর্তী সরকারের কাছে দেশের জনগণ শান্তি ও স্বস্তি প্রত্যাশা করেছিল কিন্তু দেশে অরাজক পরিস্থিতি বিদ্যমান রেখে সরকার জনগণের মৌলিক প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে বার বার।
এসময় কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক বিভাগীয় সেক্রেটারি ডা. হাবীবা চৌধুরী সুইট বলেন বোন সওদা সুমিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে সেজন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাই তবে এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেটা লক্ষ রাখতে হবে। এসময় হামসহ জনগুরুত্বর্পুণ বিষয়ে নজর দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারী সাবিকুন্নাহার মুন্নী বলেন, বর্তমান সরকার ৫১ দিন পার করেছে কিন্তু এরই মধ্যে তাদের যেসব এক্টিভিটিস আমরা দেখতে পাচ্ছি তার মাধ্যমে নুতন ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি।
প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু নাগরিক স্বাধীনতা হস্তক্ষেপ না করার আহবান জানিয়ে বলেন, বিশেষ করে নারীর অধিকার মর্যাদা ক্ষুন্ন হয় এমন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকুন। দেশের নাগরিকদের সমস্যা পেট্রোল পাম্পগুলোর দীর্ঘ লাইন দেখলেই বুঝা যায়।
ঢাকা মহানগী দক্ষিণ মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়শা পারভীন অভিযোগ করেন ফেসবুকে যারা নারী বিদ্বেষমুলক প্রচারণা করছে তাদের অধিকাংশই সরকারী দলের। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী উত্তর মোহাম্মদপুর পূর্ব থানা মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্যা ফাতিমা আক্তার হ্যাপী । তিনি বলেন, এখানে আমরা যারা উপস্থিত হয়েছি আমরা দুইটা জেনারেশনকে ধারন করি। আমরা জেনজি’র মা জেন আলফা আমাদের ঘরে লালিত হচ্ছে, আমরা তাদের নিয়ে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছিলাম, রাখছি এবং রাখবো ইনশাআল্লাহ।
ঢাকা মহানগরী উত্তর কর্মপরিষদ সদস্যা নাজমুন নাহারের সঞ্চালনায় মানবন্ধনে সাওদা সুমিকে গ্রেফতার ও মামলা প্রত্যাহারে ৮ দফা দাবী পেশ করা হয়।
মানববন্ধনে ৮ দফা দাবি পেশ করা হয়্ দাবিগুলো হলো:
১।বিবি সওদার বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে হবে। এবং তাকে গ্রেফতারের ইন্ধন দাতাকে গ্রেফতার করতে হবে।
২। মধ্যরাতে কোন ওয়ারেন্ট ছাড়া কোন ব্যক্তিকে ঘর থেকে তুলে নেওয়ার কালচার বন্ধ করতে হবে।
৩। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে নিয়ে অশালীন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদেরকে সাইবার ক্রাইম মামলার আওতায় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৪। সরকারের উদাসীনতায় তেল এবং গ্যাস সংকট বেড়ে চলেছে। বিরোধী দলকে সাথে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নিতে হবে।
৫। বিএনপি সন্ত্রাসী কর্তৃক হামলা এবং উল্টা মামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে জন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্খার আলোকে গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করে মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
৭। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং গুম সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্স পুনর্বহাল করতে হবে।
৮। অটিস্টিক শিশুর মাকে মধ্যরাতে শিশু থেকে বিচ্ছিন্ন করে গ্রেফতারে মা ও শিশুর অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। গ্রেফতারের নির্দেশদাতাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে।