হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দেশে যে নতুন গণতান্ত্রিক ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেখানে সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। কিন্তু হবিগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

শিবিরের নেতাদের দাবি, এ হামলায় এনসিপির মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাস, সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি এবং জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় ভাঙচুর করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তারা এ ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের অপচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা আরও বলেন, এ ধরনের সহিংসতা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ঝিনাইদহে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা এবং সাভারে এনসিপির পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

নেতৃদ্বয় বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক। তাদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ড জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থি।

বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের নেতারা বিএনপি ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি হামলায় জড়িত নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে দলীয়ভাবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রচলিত আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানান।