বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর নির্বাচনে জনগণ একই তফসিলের অধীনে একইসাথে জাতীয় সংসদ এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের রায় দিয়েছিল। জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১১ দলের ৭৭ জন প্রতিনিধি দুটি শপথ নিলেও, বিএনপি গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করে সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করে। এভাবে তারাই দেশে সংকট সৃষ্টি করেছে। গণভোটের রায় অস্বীকার করে বিএনপি মূলত তাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কার্যালয়ে ১১ দলের কেন্দ্র ঘোষিত ১১ এপ্রিলের বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত তিনটি গণভোটের মধ্যে দু’টিই বিএনপির আমলে হয়েছে। একদলীয় বাকশালী শাসন থেকে উত্তরণে ১৯৭৫ আগষ্ট বিপ্লবোত্তর খোন্দকার মুশতাকের শাসনের পর প্রতিবিপ্লবের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ এবং নারায়ে তাকবীর-আল্লাহু আকবর শ্লোগানে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়েই জিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল ৭ নভেম্বর। দু’বছর শাসন পরিচালনার পর ১৯৭৭ এর গণভোটের মাধ্যমেই তিনি বৈধতা পেয়েছিলেন। আর ১৯৯১ সালে বেগম জিয়ার আমলেই গণভোটের মাধ্যমে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি বৈধতা পেয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটের ম্যান্ডেটও বিএনপি সরকারকে মেনে নিতে হবে। জুলাই সনদের আইনি মর্যাদা নিশ্চিত করেই নতুন বাংলাদেশ পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায়, ১১ দলীয় ঐক্য জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবে ইনশা-আল্লাহ্। ১১ এপ্রিল ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির সফলভাবে বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি এবং চট্টগ্রাম নগরবাসীকে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ার আহবান জানান।
চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১দলের সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী মুহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় উক্ত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মজলিস চট্রগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ এমদাদুল্লাহ সোহাইল, নগর নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েব আমীর মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির মহানগর যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফ মঈনউদ্দীন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মহানগর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, খেলাফত আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আতিক বিন ওসমান, বাংলাদেশ নেজাম ইসলাম পার্টির নায়েবে আমীর মাওলানা মুবিনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহানগর সেক্রেটারী মাওলানা গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মাওলানা রিদওয়ানুল হক, আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) চট্টগ্রাম নগর সেক্রেটারি এডভোকেট আবুল কাসেম, লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরী সিনিয়র সহ সভাপতি মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোস্তফা কামাল প্রমুখ।
সভায় নেতৃবৃন্দরা বলেন, শনিবার কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ ও মিছিল সমাবেশ চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা জামে মসজিদের উত্তর গেইটে বিকাল- ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ সফল করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।