শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর বিআইএ মিলনায়তনে সকাল ৯টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর মজলিসে শূরার প্রথম সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভুঁইয়া।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আবু বকর রফিক, ড. মাওলানা সাইয়েদ আবু নোমান, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুছ, অধ্যাপক মাওলানা লিয়াকত আক্তার সিদ্দিকী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভুঁইয়া বলেন, ইসলামী আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন নয়, এটি মানবতার মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আন্দোলন। এ আন্দোলনকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিতে হলে কর্মীদের জ্ঞান, আমল, চরিত্র ও সাংগঠনিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। এমন মানুষ তৈরি করতে হবে যাদেরকে দেখলে মানুষের তাকওয়া বৃদ্ধি পায়, আল্লাহর কথা স্মরণ হয় এবং মানুষের অন্তরে আস্থা সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে নৈতিক অবক্ষয়, দুর্নীতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের কারণে মানুষ দিশেহারা। বাংলাদেশও রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মতো সমস্যায় জর্জরিত। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। জামায়াতে ইসলামী জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। মানুষের মাঝে ইসলামের সুমহান আদর্শ পৌঁছে দিতে হবে। সমাজ পরিবর্তনের জন্য প্রথমে ব্যক্তি, তারপর পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ইসলামী মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে। কর্মীদের আত্মশুদ্ধি, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আল্লাহভীতি ও জবাবদিহিতার অনুভূতি ছাড়া প্রকৃত কল্যাণ সম্ভব নয়। প্রত্যেকে যেন আল্লাহকে ভয় করে জীবন পরিচালনা করে এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারে, সেই মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। ত্যাগ ও কুরবানির মানসিকতা ছাড়া কোনো আদর্শিক আন্দোলন সফল হতে পারে না।

তিনি বলেন, আদর্শ পরিবার গঠনই একটি আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের ভিত্তি। পরিবারে ইসলামী মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলির চর্চা বাড়াতে হবে। জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে তাদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।

অধিবেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চসিক মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, ডা. একেএম ফজলুল হক, ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, নগর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোছাইন, ফখরে জাহান সিরাজী, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুর, মাহমুদুল আলম, ড. মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, অধ্যক্ষ নুরনবী, ফারুকে আজম, মুহাম্মদ ইসমাইল, ড. আ ম ম মসরুর হোসাইন প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি মিসেস ফরিদা খানম, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি মিসেস হাসিনা ইয়াসমিন রীনা, মিসেস আয়েশা পারভিন, মহানগরী সাংগঠনিক সম্পাদিকা মিসেস শিরিন জাহান ও উম্মে ফাতেমাসহ মহানগরী মজলিসে শূরার মহিলা সদস্যগণ।