বিএনপি সরকার গঠন করেই দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে। আপনারা সরকার গঠন করেছেন এবার জুলাই সনদের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন। দিল্লীর কথায় দেশের ভতরে বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। তিনি গতকাল সোমবার বিকেলে বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া শহীদ দানেশ উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে উপনির্বাচনী গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতসহ ১১ দল মনোনীত প্রার্থী ও বগুড়া শহর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে গণসমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চলের সহকারি পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি গোলাম রব্বানী, এনসিপির মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় নারী শক্তি সদস্য সচিব ও এনসিপির যুগ্ম মূখ্য সংগঠন, দক্ষিণাঞ্চল ডা: মাহমুদা আলম মিতু ও বগুড়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল হক সরকার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন এবং যারা আহত হয়ে হাসপাতালে শুয়ে আছেন এই মানুষগুলো একটি বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশ চেয়েছিলেন। শেখ হসিনার ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে নতুন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চেয়েছিলেন তারা। প্রধানমন্ত্রী নিজে গণভোটে হ্যাঁ’তে ভোট দিতে বলেছিলেন। জনগণ ভোট দিয়ে হ্যাঁ বিজয়ী করার পর এখন তিনি তা অস্বীকার করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট আদেশ বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী জনগণের সাথে প্রতারণা করছেন। যেই ৫ কোটি ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন তাদের সাথে প্রতারণা জাতি ভুলবে না। সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করে অতীতে কেউ সুবিধা করতে পারেনি। শেখ হাসিনা যেমন মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন, সেভাবে বিএনপিও সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিজেদের খবরদারি প্রতিষ্ঠার জন্য গণভোট, গুম কমিশন সংস্কারসহ জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ আদেশগুলো বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় সংসদে সরকারের এ সকল গণবিরোধী উদ্যোগের প্রতিবাদ করছে, একই সাথে রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। দেশের ৫ কোটি মানুষ গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের যেই ম্যান্ডেট দিয়েছে কোন অপশক্তি যেন সেই ম্যান্ডেট নস্যাৎ করতে না পারে সেজন্য জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী জোট সবসময় সজাগ রয়েছে। সংসদের আলোচনায় কাজ না হলে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি আসন্ন উপনির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি আবিদুর রহমান সোহেলকে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম বলেন, বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করে শুধু ভোটারদের অসম্মান করছেন তা নয়। তারা নিজেদের ৩১ দফার সাথেও প্রতারণা করছে। ৩১ দফার প্রথম দফায় সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে এখন তারা নিজেদের প্রতিশ্রুতিও মানতে চান না। তারা মুখে এক কথা আর কাজে আরেকটা করে নিজেদেরকে কী প্রমাণ করছেন সেটা জাতি ভালো করেই বুঝে গেছে। তিনি বলেন, সরকার সব বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়, চাটুকারদের ভিসি নিয়োগ করে শিক্ষাব্যবস্থাকে দলীয় করণ করছে, ঋণ খেলাপীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন- একজন ঋণ খেলাপী কিভাবে দেশের অর্থনীতি ঠিক করবে? তিনি আসন্ন উপনির্বাচনে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে ভোটারদেরকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দি বলেন, আমরা বেগম জিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে অতীতে বগুড়ায় বিএনপিকে ছাড় দিয়েছি। আর কোন ছাড় নয়, উপনির্বাচনে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে। বগুড়া সদরের ভোটাররা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভালোবেসে তারেক রহমানকে ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি আপনাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারেননি। বগুড়ার আসন ছেড়ে দিয়েছেন বলেই আঙ্গুলের কালীর দাগ মুছার আগেই আবারও ভোট দিতে হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী হলে কারো অধিকার হরণ করবে না। জনগণের অধিকার শতভাগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি দলমত ভুলে সবাইকে ৯ এপ্রিল দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

গোলাম রব্বানী বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গণভোটের রায়কে অস্বীকারের মাধ্যমে জাতির সাথে বেঈমানী করেছে। আমরা এই বিএনপির প্রতি আর আস্থা রাখতে পারি না। জনগণ আর কোন ভুল করবে না।

পরে অতিথিবৃন্দ শহরের শহীদ খোকন পার্কে আরেকটি নির্বাচনী গণসমাবেশে বক্তব্য রাখেন। গণসমাবেশে অন্যান্যের মাঝে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ আব্দুল আজিজ, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আ.স.ম আব্দুল মালেক, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল হাকিম সরকার, এনসিপির জেলা সভাপতি এস এ মাহমুদ, জামায়াত নেতা রফিকুল আলম, আল-আমিন, আব্দুস ছালাম তুহিন, আব্দুল হামিদ বেগ, ইকবাল হোসেন, হেদাইতুল ইসলাম প্রমুখ।