খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগের সাথে বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশ নাগরিকদেরকে গুলী করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলমানদেরকে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা ভারতের এমন আধিপত্যবাদী আচরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। দু:খজনক ব্যাপার হচ্ছে, গত এক সপ্তাহে বিবাড়িয়া ও লালমনিরহাট সীমান্তে ৩ জন বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যা করা হলেও এর উপযুক্ত জবাব চাইতে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনারকে এখনো তলব করেনি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারকে এই ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাই।

গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ একথা বলেন।

বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, হত্যাকাণ্ড, মাদক, অশ্লীলতা, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই প্রভৃতি অপরাধের মাত্রা বাংলাদেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে কুরবানির পশুরহাট ইজারায় অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা হতাশাজনক। ফেনী, সিলেট, রংপুর সহ সাম্প্রতিক সময়ে বারবার বন্যা কবলিত অঞ্চলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, মেরামত এবং খাল খনন, উদ্ধার ও সংস্কার প্রক্রিয়া সরকারকে এই মৌসুমেই দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করতে হবে। পদ্মা ও তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে ব্যারেজ নির্মাণের যে মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে যে কোন মূল্যে তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে আরো বলা হয়, গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার করতে সরকারকে অবশ্যই আন্তরিক হতে হবে। বিএনপিকে ভুলে গেলে চলবে না, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহীদ ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের ত্যাগের বিনিময়ে তারা আজকে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এর ব্যাত্যয় ঘটলে জনগণের কাছে রাজনৈতিক বেঈমান ও ওয়াদা বরখেলাপকারী হিসেবে চিহ্ণিত হবে। জুলাই গণহত্যা সহ সকল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে জনবল বৃদ্ধি করতে হবে। শেখ হাসিনা সহ পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের উদ্যোগ ত্বরান্বিত করতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক মুহাম্মদ আবদুল করিম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রিফাত হোসাইন মালিক, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শায়খুল ইসলাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, খন্দকার শাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, মাওলানা ফারুক আহমদ ভুঁইয়া, আবুল হোসেন, আমির আলী হাওলাদার, এডভোকেট রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।