- নতুন ফ্যাসিবাদ বিদায় করতে সাড়ে ১৫ বছর লাগবে না --বিরোধীদলীয় নেতা
- “গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছেড়ে দে” - স্লোগান
- বৃষ্টিতে ভিজে লংমার্চ বহরকে স্বাগত জানিয়েছে জনগণ
- জাতীয় পতাকা, ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে রাস্তার দু’পাশে মানুষের সারি
মিয়া হোসেন, রেজাউল করিম রাসেল, লংমার্চ থেকে
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। পথে পথে সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, এখনই সরকার পতনের দাবি জানাচ্ছি না। জনগণের সমস্যা দূর করতে হবে আর গণভোটে দেয়া জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় একদফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করা হবে বলে বক্তারা হুঁশিয়ার করেছেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। পুরনো ফ্যাসিবাদ বিদায় করতে সাড়ে ১৫ বছর লেগেছে। কিন্তু নতুন ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হলে তা বিদায় করতে সাড়ে ১৫ বছর লাগবে না। কারণ তাদেরকে আমরা চিনি। তারা সাড়ে ১৫ বছর সরকারের অনুমতি নিয়ে সমাবেশ করেছে। তিনি অবিলম্বে ছয় দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে শুরু হয়ে রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম লালদিঘী ময়দানে বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে লং মার্চ কর্মসূচী শেষ হয়। তবে এ লং মার্চই শেষ নয়। সরকার দাবি না মানলে ঢাকা থেকে বিভাগীয় শহরে লংমার্চ এবং সবশেষে সারা দেশ থেকে ঢাকা লং মার্চ করে মহা সমাবেশের মাধ্যমে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে বলে সমাবেশগুলোতে জানানো হয়েছে। ঢাকার শাপলা চত্বর সমাবেশ করে শুরু হয়েছে। তারপর চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়া, চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল, মীরের সরাইসহ বিভিন্ন স্থানে পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবশেষে চট্টগ্রাম লালদিঘী ময়দানে বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে লং মার্চের সমাপ্তি হয়।
লংমার্চকে স্বাগত জানাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণে মানুষ জড়ো হয়েছে। তারা রাস্তার দু’পাশে দাড়িঁেয় লংমার্চের গাড়ি বহরকে স্বাগত জানিয়েছে। আর প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য বৃষ্টি ও রোদ উপেক্ষা করে ঘন্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে ছিল। সেই সাথে হাতে জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্লে কার্ড, ব্যানার ও পোস্টার প্রদর্শন করেছে। চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে পথে পথসভাগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সকল শ্রেণী পেশার মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়েছে। সমাবেশগুলো কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। সবশেষে চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠ রাতের বেলায় ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশ যেন অন্যরকম আবহ বিরাজ করেছে। সমাবেশগুলো থেকে জনগণের সমস্যা সমাধান করার জন্য বক্তব্য দেয়া হয়। এ সময় মানুষেরা ”গ্যাস দে, বিদ্যু দে, নইলে গদি ছেড়ে দে” - স্লোগান দিয়েছে।
শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চের শুরু
শনিবার সকালে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে চট্টগ্র্রামের অভিমুখে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ যাত্রা শুরু হয়। তার আগে সেখানে সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে সমান্তরালভাবে সংসদ এবং রাজপথে আন্দোলন চলতে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমার আজ কোনো দল, ব্যক্তি, গোষ্ঠীর জন্য রাজপথে নেমে আসিনি। জনগণের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি। জনগণের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ। যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন সংসদে এবং রাজপথে চলতেই থাকবে।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, ছয় দফার সাথে সপ্তম দফা হবে ‘কোনো চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজের অস্বিস্ত বাংলাদেশে আমরা বরদাস্ত করবো না’। দুর্নীতি-চাঁদাবাজি চলবে না। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ট। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুন্ঠিত। গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই, পানি নাই কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে; বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল আছে। অতিষ্ট হয়ে, বিরক্ত হয়ে সিফাত নামের একজন তরুণ কি বলেছিল তাতে বাংলাদেশ উলোটপালোট হয়ে যাওয়ার মতো। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় গিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই সিফাতের মুখের ভাষা নয়, কিন্তু যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে এবিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে। তিনি হুঁশিয়ারি করে বলেন, ভালো ভালোই ওরে ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন তাহলে মনে রাখবেন, এক নুর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডা. মিলন অনেকের গদিকে একদম উলোটপালোট করে দিয়েছিল।
ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, মানুষের অধিকার আদায়ে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই অঙ্গীকার পূরণ করতেই আমরা এই কর্মসূচি শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের কর্মসূচির কৌশল ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রীয়া শুরু হয়েছে। ক্রিয়া হলে মোবারকবাদ, প্রতিক্রীয়া হলে জনগণের অধিকার আদায়ে আপসহীন সংগ্রাম চলবে। কোনো বাধাকে পরোয়ার করা হবে না। জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না। কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি মহান আল্লাহর সাহায্য এবং দেশবাসীর স্বতঃফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ও সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশের উদ্বোধনী বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে, তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট নিরসনসহ ৬ দফা দাবি পূরণ না করলে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, লংমার্চ কর্মসূচিতে বাধা আসলে কিংবা কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে এর পূর্ণ দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।
সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, আজকে যত বাধাবিপত্তি আসুক না কেন এই লংমার্চ ইনশাআল্লাহ চট্টগ্র্রাম পৌঁছাবে। তিনি বলেন, নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে চাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই লংমার্চ। যারা গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি এই লংমার্চ তাদের বিরুদ্ধে। তিনি দেশবাসীকে লংমার্চে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, লংমার্চে বাধা আসলে ছয় দফা থেকে একদফা দাবিতে আন্দোলন দুর্বার গতিতে শুরু হবে।
এলডিপির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বানে আজ এতো ভোরে যেভাবে নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের আর কোনো রাজনৈতিক দল এতো ভোরে রাজপথে আসতে পারবে না। তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে তারেক রহমান সাহেব একটা সমাবেশ এতো ভোরে আহ্বান করে দেখতে পারেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব বলেছিলেন, তেল দে, গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে নইলে গদি ছেড়ে দে। রাষ্ট্রপতি যদি এখনো সেই কথা না বলে তবে তিনি মোনাফেক। তিনি বলেন, চাঁদাবাজ-মাস্তানদের ভোট দিলে দেশ ভালো চলবে না তার দৃষ্টান্ত বর্তমান সরকার। দেশ ভালোভাবে চালাতে হলে সৎ ও যোগ্য লোকদের ভোট দিতে হবে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য ১ম রাউন্ড শেষ করে ২য় রাউন্ডে আন্দোলনের বার্তা দিচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী কারণ আমরা সন্ত্রাসীদের দিয়ে দল পরিচালনা করি না। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায় করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আমি সরকার প্রধানকে আল্লাহর কুরআনের ভাষায় বলতে চাই আপনি সতর্ক হয়ে যান। নয়তো আমরা না চাইলেও আপনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। তিনি বলেন, আমাদেরকে প্রশ্ন করা হয় ছয় মাস যেতে না যেতে আপনারা কেন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। আমি এর জবাবে বলবো সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মিনিট না যেতেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ পালনের মাধ্যমে সরকারকে যেই বার্তা দিতে চাচ্ছি সরকার যদি সেটি বুঝতে না পারে তবে পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী বলেন, পতিত সরকারের পতনের পর এদেশের জনগণের একটা স্বাভাবিক প্রত্যাশা ছিল মানুষ স্বস্তির মধ্যে থাকতে পারবে। কোনো ধরনের নির্যাতন আসবে না। কিন্তু একটা বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশ চলছে। মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা সরকার দিতে পারছে না। তিনি বলেন, ছয় দফা দাবি আদায়ে আমরা রাজপথে নেমেছি। জনগণের অধিকার আদায়ের ছয় দফা দাবি পূরণ না করে আমরা রাজপথ ছেড়ে যাবো না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেলারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা তাল হারিয়ে ফেলছেন। তারা কখন কী বলবেন সেটাও ঠিক করতে পারেন না। সরকার গণভোটের গণরায় মেনে নিয়ে সংসদ অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবে কিন্তু সরকার সেটি করেনি। সেই ট্রেন সরকার মিস করে ফেলেছে। ১৮০ দিনের মধ্যে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ট্রেনও সেপ্টেম্বরের পর মিস হয়ে যাবে। তাই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই গণভোটের গণরায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, সরকারের অবস্থা এমন হয়েছে তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে ৭০ শতাংশ জনগণের বিপক্ষে গিয়েছে। আর তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ দিতে না পেরে ১০০ ভাগ জনগণের বিরাগ অর্জন করেছে। তিনি বলেন, সংসদে টু-থার্ডের ক্ষমতা দেখিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না। জনগণ ভোট দিতে পারে আবার ক্ষমতাও কেড়ে নিতে পারে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকারি দলের নেতারা বলছেন ছয় মাস যেতে না যেতেই আমরা কেন আন্দোলন করছি। এর কারণ আমরা সরকারের ভুল গুলো দেখিয়ে দিয়ে সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি। কারণ আমরা সরকারের শত্রু নয়। সরকার বন্ধু ও শত্রু চিনতে পারে না বলেই সরকার তাল হারিয়ে ফেলছে। তিনি বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের দেড়শ টাকা লাঞ্চ আর ৫০ হাজার ফ্যামিলী কার্ডের গল্প ছাড়া আর কোনো গল্প নেই, কোনো অর্জন নেই। তিনি আরও বলেন, ১০ টাকা কেজি চালে জাতিকে ভাত খাওয়াবে বলে যে ১০ টাকা কেজি চাল করেনি। তার মতোই আপনারাও কথা দিয়ে কথা রাখেননি। আপনারা জুলাই সনদ অক্ষরে-অক্ষরে পালন করবেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেননি। সুতারাং তাঁর মতোই আপনাদের পরিণতি হতে পারে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় আমরা দেখতে পাচ্ছি তিনি ঠিকমতো বাংলাও পড়তে পারেন না। আমরা বুঝে গেছি কেন প্রধানমন্ত্রী কথা কম বলেন। তিনি বলেন, আমাদের দাবি পরিষ্কার আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন চাই, গণহত্যার বিচার চাই, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ চাই। তিনি আরও বলেন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ দিতে পারেন না কিন্তু সিফাতকে গ্রেফতার করতে পারছেন। অবিলম্বে সিফাতকে মুক্তি দিতে হবে। নতুবা আমরা সবাই সিফাতের মতোই প্রতিবাদ জানাতে শুরু করবো।
জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, সরকার আমাদেরকে বিদ্যুৎ দিতে পারবে না, তেল দিতে পারবে না, গ্যাস দিতে পারবে না, সার দিতে পারবে না, গণভোটের রায় মেনে নিতে পারবে না। এতো না-না চলতে থাকলে জনগণও সরকারকে না করে দিতে পারে। তিনি বলেন, ছয় দফা দাবি আদায় না হলে ছয় দফা থেকে একদফা দাবিতে চলে আসতে পারে।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে বারবার প্রতারণা করেছে। তারা জনগণের প্রতিরোধের মুখে ১৯৯৬ সালে সারারাত সংসদ বসিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবি মেনে নিয়েছিল। গণভোটের রায়ও তাদেরকে মেনে নিতে বাধ্য করা হবে।
খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ফ্যাসিস্ট হয়েছিল প্রশাসনে দলীয়করণের মাধ্যমে। পুলিশ বাহিনীকে পুলিশ লীগে পরিণত করে দিল্লিতে পালাতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করে বিএনপি প্রশাসনে দলীয়করণ করছে। আওয়ামী লীগের পুলিশ লীগ বিএনপি পুলিশ দল বানাতে কাজ করছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি ১১ দলীয় ঐক্যকে রাজপথে ঠেলে দিয়েছে। আজকে তেল নেই, গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, সার নেই! একের পর এক শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে! আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ গুলো বিএনপি সরকার বাতিল করে দিয়ে পুরোনো ফ্যাসিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে যদি জনগণের ৬ দফা দাবি আদায় না হয় তবে আরো কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায় করা হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, এই লংমার্চ সরকার পতনের কর্মসূচি না হলেও সরকারকে এক কড়া বার্তা। তিনি বলেন, সরকার পতন ঘোষণা দিয়ে হয় না। সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে যেকোনো সময় সরকার পতনের ঘটনা ঘটতে পারে। যেমনটা ঘটেছে চব্বিশের জুলাইয়ে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। এখন বিএনপিও দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় উপেক্ষা করে আবারও জনগণের ভোটাধিকার হরণের পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, সরকার সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অনতিবিলম্বে সরকার ছয় দফা দাবি মেনে না নিলে ছাত্র সমাজ আবারও রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে।
সমাবেশ শেষে মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে হাজার-হাজার জনগণ চট্টগ্র্রামের অভিমুখে লংমার্চের যাত্রা শুরু করে।
বৃষ্টিতে ভিজে লংমার্চকে স্বাগত জানালো নারায়ণগঞ্জবাসী
আব্দুল মোমিন, জয়নাল আবেদীন : ঢাকা থেকে বের হওয়ার মুখে চিটাগাং রোড এলাকায় পথসভার আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ জামায়াত। সেখানে লংমার্চের গাড়ি বহর পৌঁছার সাথে সাথে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টিতে ভিজে স্লোগানে মুখরিত করে তুলে পুরো এলাকা। শতশত মানুষের উচ্ছ্বাস আর দাবি আদায়ের বিপ্লবী স্লোগানে পথসভা এক অন্যরকম আবহে রূপ নেয়। বৃষ্টির মধ্যেই প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
তিনি বলেন, আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করার জন্য। চব্বিশের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য। জনগণের চুলায় গ্যাস পৌঁছে দেয়ার জন্য। জনগণের ঘরে বিদ্যুতের বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্য। এই সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করছে, ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা ভঙ্গ করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। ১১ দল জনগণের পাশে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা জনগণের সাথে আছি, আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়বো। আমরা সফল হবো। আজকের লংমার্চ শেষ নয় শুরু।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা আবদুল জাব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হকসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও নারায়ণগঞ্জ জেলা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
কুমিল্লায় পথসভা পরিণত হয়েছে সমাবেশে রেজাউল করিম রাসেল কুমিল্লা অফিস
কুমিল্লায় পথসভা পরিণত হয়েছে সমাবেশে। অজস্র মানুষের উপস্থিতিতে রাস্তা পূর্ণ হয়ে আশপাশে ছাড়িয়ে গেছে। সমাবেশে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব।‘সমাধানের জন্যই আমরা রাস্তায় নেমেছি। আপনারা কি সমাধান চান? দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সব দাবি আদায় করে ছাড়বো । আমরা আশাবাদী, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন হবে। জুলাই সনদও শতভাগ বাস্তবায়ন হবে।
দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনারা কি গ্যাস পান, বিদ্যুৎ পান, পানি পান? চাঁদাবাজি ছাড়া কি ব্যবসা করতে পারেন? কুমিল্লায় কি দুর্নীতি আছে? আপনারা কি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেখতে চান?’জনগণের দাবির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং সব দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবেন।
লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে জামায়াতের আমীর বলেন, “আজকের কর্মসূচি দিয়ে শুরু। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ইনশাআল্লাহ আমাদের লংমার্চ যাবে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশ কি শুধু চিড়া-মুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি আমাদের দাবি আদায়ের জন্য হবে?”
তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “কুমিল্লার লোকেরা আপনারা যাবেন? প্রয়োজনে চিড়া-মুড়ি হাতে নিয়েই যাবেন। দাবি আদায় করে ইনশাআল্লাহ ঘরে ফিরবেন। আপনারা প্রস্তুতি নেন।”
কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিকে দীর্ঘদিনের দাবি উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সিলেট বিভাগ হওয়ার পর ১৯৯৪ সালে কুমিল্লা বিভাগ করার দাবি উঠেছিল। কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী?’
তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর থানায়-পানায় করবেন না, কুমিল্লা বিভাগ দিয়ে দেন। ১৯৯৪ সাল থেকে কুমিল্লাবাসী বিভাগের দাবি করে আসছে। তাই কুমিল্লা নামেই বিভাগ আগে বাস্তবায়ন করতে হবে।’কুমিল্লার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘খন্দকার মোশতাকের বাড়ি কুমিল্লা—এ কারণে কুমিল্লার প্রতি কোনো বিরূপ মনোভাব দেখানো হয়ে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি বলেন, কোনো জেলা বা বিভাগের মানুষকে অবহেলা কিংবা অপমান করা হলে সেই অঞ্চলের মানুষ কষ্ট পায়।
কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শফিকুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন কুমিল্লার পরিস্থিতি ভালো প্রশ্ন রেখে সাধারণ মানুষকে বলেন আপনারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে কেন বলেন না তিনি তো সংসদের সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন । উনি তো নিজের মন্ত্রণালয়ের কোন খবর নাই আমরা কি বলবো ।
বিএনপি'র সিনিয়র সদস্য বাবু গড়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন মাদকের জয়লাভ হয়ে গেছে দেশ । আর এসব মাদক আসছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলাকা দিয়ে । কিন্তু নিজের বাড়ির মাদকের চালান বন্ধ করতে পারেন না কিন্তু সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন ।
সমাবেশে পথসভায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ড. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যে দুঃখ-কষ্টে আছে, তা লাঘব করাই তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য। সরকারকে ‘ওয়েক-আপ কল’ হিসেবে এই আন্দোলনের সূচনা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশের মানুষ নানা দুঃখ-কষ্ট ও সংকটের মধ্যে রয়েছে। জনগণের ন্যায্য দাবি পূরণ এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় জনগণই তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে।
পথসভায় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের এসব মৌলিক দাবি পূরণ না হলে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না। তিনি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নেরও দাবি জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “জনগণের রায় যদি প্রত্যাখ্যান করা হয়, জনগণও সেই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করবে।” তিনি বলেন, জনগণের ভোট ও গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখানো রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব। জনগণের আকাক্সক্ষাকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায় কার্যকর করতে হবে। এই রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত না হলে সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “জনগণের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় গিয়েছেন”—এমন অভিযোগ তুলে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে বিষয়টি মেনে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জনগণের দেওয়া রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সরকারের পরিণতি ফ্যাসিবাদী সরকারগুলোর মতো হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
কুমিল্লা পথসভার সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল ও কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন।
পথসভায় আরো বক্তব্য রাখেন, আমার বাংলাদেশ পার্টি কেন্দ্রীয় সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টি মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব,বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, জাতীয় নাগরিক পার্টি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুল হালিম,নুরুল ইসলাম বুলবুল।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য . মু. আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ শাহজাহান এডভোকেট, কুমিল্লা উত্তর জেলা আমীর অধ্যাপক আবদুল মতিন,বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রাহমান ভুইঁয়া, চাঁদপুর জেলা আমীর, মু. বিল্লাল হোসাইন, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর একে এম এমদাদুল হক মামুন,কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ড. শফিকুল আলম হেলাল,কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ সেক্রেটারী ড. সৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী, এনসিপি যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্, জাতীয় যুবশক্তি সভাপতি এড. তরিকুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি, কুমিল্লা মহানগরী আহব্বায়ক মোঃ সিরাজুল হক,বাংলাদেশ পার্টি, কুমিল্লা জেলা সভাপতি মীয়া মোহাম্মদ তোফিক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি . মু. সোলাইমান, ছাত্র শিবির কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মু. নাজমুল হাছান পঞ্চায়েত, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত শিবির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শিবির সভাপতি . জাহিদুল ইসলাম, উত্তর জেলা সভাপতি মু. শাকিল আহম্মদ,এলডিপি কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ রাসেল,শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা সভাপতি খাইরুল ইসলাম প্রমুখ।
চৌদ্দগ্রামে পথসভায় সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি
চৌদ্দগ্রামে পথসভায় সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যাত্রাপথে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত পথসভায় জনতার ঢল নামে। অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমীর মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এমপি , এলডিপির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছু’ম এবং মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত।
এছাড়াও ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয়, কুমিল্লা জেলা ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ফেনীর পথসভা জনসমুদ্রে পরিণত
একেএম আব্দুর রহীম : লংমার্চের গাড়ি বহর বিকেলে ফেনী জেলার মহিপালে পৌঁছালে নেতৃবৃন্দের গাড়ি বহর ঘিরে ধরে উৎসুক জনতা। লাখ-লাখ জনতার মাঝে যেন জনস্রোতে ভেসে যাচ্ছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ। এসময় নেতৃবৃন্দ গাড়ির ভেতর থেকে দাঁড়িয়ে জনগণকে অভিবাদন জানান। এতে উপস্থিত জনগণ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ফেনী জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে মহিপালে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি। এসময় ঢাকা-চট্টগ্র্রাম মহাসড়কের মহিপালে ৫/৭ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ফলে লংমার্চে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও সমর্থন দেখা যায়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফেনী জেলা আমীর মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী।
আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও ফেনী জেলার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
এসময় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম এবং মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি। এছাড়াও ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয়, ফেনী জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মিরেরসসরাই পথসভা
আশরাফ উদ্দিন : চট্টগ্রাম লালদিঘী মাঠে যাওয়ার পথে মিরের সরাই পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা.শফিকুর রহমান। এ সময় এনসিপির নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।