বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, বৈষম্য বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশ বৈষম্যের বোঝা বহন করছে। এ পরিস্থিতি রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব।
গতকাল বৃহস্পতিবার জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, যে লক্ষ্য নিয়ে আবু সাঈদ জীবন দিয়েছেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের দিকেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। গত দেড় বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি খুব বেশি হয়নি। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে মাত্র চার মাস আগে। আমরা আশা করি, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক নেতৃত্ব আন্তরিকভাবে কাজ করবে এবং কেউ সংস্কারের পথ থেকে সরে যাবে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে নানা কারণে মানুষের মধ্যে কিছুটা হতাশা কাজ করছে। আবু সাঈদরা যে সংস্কারের স্বপ্ন ধারণ করেছিলেন এবং যে লক্ষাধিক ছাত্র, তরুণ, যুবক ও শ্রমিক সেই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, সেই প্রত্যাশার জায়গায় আমরা এখনও পুরোপুরি পৌঁছাতে পারিনি। তবে আমরা বিশ্বাস করি, শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যাবে না। তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পথে এগিয়ে নেবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. জিয়াউল হক, রংপুর অঞ্চল সহকারী পরিচালক অধ্যাপক আবুল হাশেম বাদল, রংপুর মহানগরীর সভাপতি অ্যাডভোকেট কাউছার আলী, রংপুর জেলা সভাপতি বেলাল আবেদিনসহ ফেডারেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
গাইবান্ধা সংবাদদাতা : বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের লক্ষ্য কেবল একটি শ্রমিক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করা নয় বরং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা শোষণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা। দীর্ঘ সময় ধরে শ্রমিকরা বৈষম্য, কম মজুরি চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের শিকার হলেও তাদের প্রকৃত কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা কেউ রাখেনি।দেশের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য, কৃষি শিল্প পরিবহন বন্দর কিংবা রপ্তানি খাত সর্বত্র শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রম জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক শ্রমিক এখন অনেক কর্ম পরিবেশ থেকে বঞ্চিত। তাই শ্রমিকদের নিয়ে অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রম নীতির কোন বিকল্প নেই।বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গাইবান্ধা জেলা সভাপতি নূরুন্নবী প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় দারুল আমান ট্রাস্টে এক প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বকব্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমানফ তিনি কথা বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের জেলা আমীর ও গাইবান্ধা -২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আব্দুল করিম বলেন ,দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সকল শহীদদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদা কামনা করেন।