বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বড় ধরনে প্রশাসনিক রদবদল শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরবর্তী ট্রেজারার (কোষাধ্যক্ষ) হিসেবে বর্তমান আলোচনায় সামনের সারিতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি নিজ বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একই সাথে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজিলাতুন্নেসা হলের প্রভোস্ট এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদকে দায়িত্ব পালন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। শুধু শিক্ষাদান ও দায়িত্ব পালনেই নয়, বরং গবেষণায় তার সুনাম বিশ্বজুড়ে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে তিনি সবসময় লড়াই করেছেন। অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থেকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
২৪'র জুলাই আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের মধ্যে যারা গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের সাথে কাজ করেছিলেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। আওয়ামী শাসনামলে ছাত্রদলকে সুসংগঠিত এবং সাহস যোগাতেন তিনি। তিনি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক রাজনীতি করার কারণে আওয়ামী শাসনামলে নির্যাতিত, সুবিধাবঞ্চিত এবং যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তবে তাকে নিয়ে বিভিন্ন মহল নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করলেও তিনি শুধু গঠনমূলক সমালোচনায় গ্রহণ করেন। ফলে নিন্দুকেরা বিভিন্ন সময় তাকে ঘিরে অপপ্রচার চালান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয়তাবাদী দলের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পদে জোর আলোচনায় রয়েছেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। অতি দ্রুতই একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে ট্রেজারার হিসেবে ঘোষণা করা হবে। দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও প্রতীক্ষার পর তাকে তার যোগ্যতা এবং দক্ষতা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “আমি যেহেতু রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় একজন মানুষ এবং দীর্ঘদিন রাজপথে ছিলাম, তাই আমার প্রত্যাশা—জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও সমতাপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে। কোষাধ্যক্ষ পদে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে কিনা, নাকি অন্য কোনো দায়িত্বে রাখা হবে—এ বিষয়ে এখনো আমি নিশ্চিত নই। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও কোনো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তাই আমার মনে হয়না এখনো অব্দি স্পেসিফিক কোনো পরিকল্পনা শেয়ার করা উচিত হবে ”
রাজনীতি
জাবির ট্রেজারার পদে তুমুল আলোচনায় অধ্যাপক নজরুল ইসলাম