বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, সংগঠন শক্তিশালী হয় ব্যক্তিজীবনে তাকওয়া, আমানতদারিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হলে জ্ঞান, চরিত্র ও কর্ম- এই তিনের সমন্বয় অপরিহার্য। এসব গুণাবলী অর্জনে তিনি জামায়াতের সদস্যদের (রুকন) প্রতি আহ্বান জানান।
গতকাল শনিবার রাজশাহী মহানগরীর একটি কনভেনশন হলে জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী সদস্য শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিব এসব কথা বলেন। জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি গোলাম মুর্তজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ শিক্ষা শিবিরে প্রধান আলোচক হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বিশেষ আলোচক ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আবুল হাসেম। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও দায়িত্বশীলগণ শিক্ষা শিবিরে উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “একজন রুকন কেবল সংগঠনের সদস্য নন- তিনি আদর্শের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ব্যক্তিজীবনে তাকওয়া, আমানতদারিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা না হলে সংগঠন শক্তিশালী হয় না। তিনি সদস্যদের আত্মশুদ্ধি, নিয়মিত আত্মসমালোচনা, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং সমাজের কল্যাণে নিবেদিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হলে জ্ঞান, চরিত্র ও কর্ম- এই তিনের সমন্বয় অপরিহার্য। তিনি আরো বলেন, সংগঠনের প্রতিটি রুকনকে হতে হবে দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক ও কর্মমুখর। তিনি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে চলা, রিপোর্টিং ও পরিকল্পিত কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দাওয়াহ কার্যক্রমকে গতিশীল করা, মানুষের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আদর্শকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার ওপর তিনি বিশেষভাবে আলোকপাত করেন।
এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, একটি আদর্শ সংগঠন টিকে থাকে সুশৃঙ্খল কাঠামো ও প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনীর ওপর। তিনি সদস্যদের নিয়মিত অধ্যয়ন, প্রশিক্ষণ ও দলীয় সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আন্তরিকতা ও দলগত সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, নেতৃত্ব মানে নির্দেশনা দেয়া নয়; বরং নিজে উদাহরণ সৃষ্টি করা। তিনি রুকনদেরকে পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে আদর্শ আচরণের মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করার আহ্বান জানান। তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে নৈতিকতা ও শালীনতার বার্তা পৌঁছে দেয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জ্ঞান ও আদর্শের সমন্বয়েই একজন রুকন পরিপূর্ণতা লাভ করেন। তিনি কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জ্ঞানচর্চা, সমসাময়িক বিষয়াবলির ওপর দখল এবং যুক্তিবোধসম্পন্ন উপস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে যুক্তিনির্ভর, শালীন ও প্রজ্ঞাপূর্ণ দাওয়াহ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষা শিবিরে দলীয় আদর্শ, সাংগঠনিক কাঠামো, সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, কর্মপরিকল্পনা, নেতৃত্ব বিকাশ, সময় ব্যবস্থাপনা এবং সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে ধারাবাহিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা শিবিরের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল খালেক সকলকে শিক্ষা শিবির সফল করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করে।