বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোঃ মোবারক হোসাইন সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের লাগাম টেনে ধরুন তা না হলে আওয়ামী লীগের চাইতেও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ যা করেছে দুই তিন মাসের ব্যবধানেই বিএনপি সেটা করা শুরু করেছে। সুতরাং তাদের পতন অনিবার্য।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী মাগুরা জেলা শাখা আয়োজিত জেলা অডিটোরিয়ামে ওয়ার্ড সভাপতি ও সেক্রেটারী সম্মেলন প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোবারক হোসাইন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ছাত্রশিবির কোন ভুইফড় সংগঠন নয়। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি তারা। তারা অত্যন্ত ভদ্র কিন্তু যদি প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়ে যান আপনারা পালায় কুল পাবেন না। কিরিচ আর চাপাতি নিয়ে আপনারা দাঁড়িয়ে ছিলেন, শূন্য হাতে নারায়ে তাকবীর স্লোগান দেয়া হয়েছিলো আপনারা টিকতে পারেন নাই। হুঁশিয়ার হয়ে যান, ছাত্রশিবিরের গায়ে হাত দিয়ে কেউ রেহায় পাই নাই। এদেশের আপামর জনসাধারণ ছাত্রশিবিরকে পছন্দ করে, ভালোবাসে সুতরাং এই সংগঠনের গায়ে হাত দিবেন না। ভবিষ্যৎ খুবই খারাপ হবে।
সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও মাগুরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মাওলানা এম বি বাকেরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য এ্যাডভোকেট আতাউর রহমান (বাচ্চু) এমপি। কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার অন্যতম সদস্য মাগুরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর আব্দুল মতিন।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী অধ্যাপক মাওলানা সাইদ আহমেদ বাচ্চু' ও সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা মারুফ কারখীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন -জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মাহবুবুর রহমান, জেলা যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা রবিউল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাগুরা জেলা সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম বিশ্বাস, সদর আমীর অধ্যাপক ফারুক হুসাইন, শ্রীপুর উপজেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা ফখরুদ্দিন মিজান, শালিখা উপজেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা আফছার আলী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের মাগুরা জেলা সভাপতি মোঃ জুবায়ের হোসেন।
অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন- এই প্রথম আমরা প্রধান বিরোধীদল হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছি, জনগন যে আশা নিয়ে আমাদেরকে ভোট দিয়েছিলো আমরা আমাদের ওয়াদা পালন করতে শুরু করেছি। কিন্তু বর্তমান সরকার আমাদের পথের প্রধান প্রতিবন্ধক। তারা দেশে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে জনগনকে চরম কষ্টে রেখেছে, আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বক্তারা আরো বলেন- আমাদের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডকে ইসলামের দূর্গে পরিনত করতে হবে। চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে দাওয়াতী কাজের সম্প্রসারণ করতে হবে। তাছাড়া বক্তারা ওয়ার্ড ও ইউনিটকে আরো শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পরামর্শমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
এর পূর্বে সকাল ৯ টায় একই স্থানে মহিলা জামায়াতের ওয়ার্ড সভানেত্রী-সেক্রেটারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।