নারী অধিকার আন্দোলনের এক বর্ণাঢ্য ‘ঈদ পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শৈশবের ঈদের স্মৃতিচারণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্ব, আনন্দঘন কুইজ প্রতিযোগিতা এবং ধর্মীয় আলোচনার সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি নারীদের এক মিলনমেলায় রূপ নেয়।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তর গুলশানে নারী অধিকার আন্দোলন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সর্বস্তরের নারীদের অংশগ্রহণে উদযাপিত হয়।

সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক ডা. তাহেরা বেগমের কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। সংগঠনের সহ-সভাপতি আফিফা মুশতারীর সুনিপুণ সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভানেত্রী মিসেস মমতাজ মাননান। তিনি ঈদুল ফিতরের প্রকৃত তাৎপর্য হিসেবে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের বিনোদনমূলক কর্মসূচি ‘স্মৃতির জানালায় ঈদ’ পর্বে অতিথিরা তাদের প্রবাস জীবনের ঈদ উদযাপনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে উত্তর আমেরিকাসহ বিদেশের মসজিদভিত্তিক উৎসব কালচারের কথা। বক্তাগণ আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ঈদ উদযাপন কিছুটা ম্লান হয়ে যাচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর আকর্ষণ কমছে। তারা ঈদকে আগের মতো উৎসবমুখর করা এবং নারীদের জন্য ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার জোর দাবি জানান।

বিশেষ অতিথি ডা. হাবিবা সুইট বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ঈদ উদযাপনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “মসজিদকেন্দ্রিক সম্মিলিত ঈদ উদযাপন মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি বৃদ্ধির পাশাপাশি ইসলামের প্রতি অন্যদের আগ্রহ সৃষ্টি করবে।” তিনি আরও বলেন, অন্যান্য সাংস্কৃতিক দিবসগুলো যেভাবে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়, সে তুলনায় ইসলামী পার্বনগুলো অনেকটা আকর্ষণ হারিয়ে ফেলছে। এর ফলে অপসংস্কৃতি সমাজকে গ্রাস করছে। তাই ইসলামী পার্বনগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে চিত্তাকর্ষক করে তুলতে ‘নারী অধিকার আন্দোলন’কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি মুহতারামা নুরুননিসা সিদ্দিকা তাঁর বক্তব্যে শৈশবের ঈদের স্মৃতি এবং পারিবারিক বন্ধনের উষ্ণতা নিয়ে আবেগঘন আলোচনা করেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. নাঈমা মোয়াজ্জম রমাদানে গুনাহ মাফ করিয়ে নেয়া ও মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন।

পরিশেষে, সংগঠনের সেক্রেটারি নাজমুন নাহার উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। আয়োজকদের মতে, সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল সার্থকতা।