বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেছেন, তেলবাজি বন্ধ করে জনগণের প্রত্যাশিত কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাহিরে সরকার দলীয় এমপি-মন্ত্রী এবং প্রশাসনের কিছু অতিউল্লাসী কর্মকর্তা যেভাবে তেলবাজি শুরু করেছে এতে শুধু তেলে সংকট নয় অনেক কিছুর সংকট সৃষ্টি হতে পারে। কোনো কোনো মন্ত্রী নিজ দপ্তরের কাজ বাদ দিয়ে অন্য মন্ত্রীর দপ্তর নিয়েও বাড়াবাড়ি করছে। পুলিশ বাহিনীর কোনো কোনো সদস্য উপর মহলের নির্দেশ বলে রাতের আধাঁরে নারীদেরকে আটক করছে! যেই দৃশ্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদের শাসনামলে দেখা গেছে সেই একই দৃশ্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী দেখা যাচ্ছে। ছাত্র-জনতা শুধুমাত্র একটি নির্বাচনের জন্য জুলাই বিপ্লব অর্জন করেনি। জুলাই বিপ্লবের চেতনাই ছিল ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার সকল কাঠামো সংস্কার করে এক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। যেখানে ছাত্র-জনতার স্লোগান ছিল উই ওয়ান্ট জাস্টিস (আমরা ন্যায় বিচার চাই) সেখানে ন্যায় বিচারের পরিবর্তে আবারও প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হচ্ছে, বিচার বিভাগকে সরকারের নিয়ন্ত্রিত করার চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মতিঝিল দক্ষিণ থানার উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মানুষ সাংবিধানিক কাঠামোর সংস্কার চায় সংশোধন নয় উল্লেখ করে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানে গাত্রদাহ তো তাদেরই হয় যারা দেশপ্রেমিক। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। কিন্তু বাহাত্তরের সংবিধানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি, হবে না। যার কারণে স্বাধীন বাংলাদেশে মানুষ ক্ষমতসীন দলের হাতে শোষণের স্বীকার হয়েছে। এবং বাহাত্তরের সংবিধান বহাল থাকলে মানুষ আবারও শোষণের স্বীকার হবে। আজকে যারা ক্ষমতায় বসেছে তারা অতীতেও এই সংবিধানের অধিনে দেশকে যেভাবে পরিচালনা করেছে আগামীতেও একইভাবে পরিচালনা করতে চায়। কিন্তু জনগণ এই সংবিধানের অধিনে রাষ্ট্র পরিচালনা আর দেখতে চায় না। জনগণ সংবিধান সংশোধন নয় বরং সংবিধান সংস্কার চায়। আজকে যারা সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে অতীতেও তারা ক্ষমতায় গিয়ে এই সংবিধান সংশোধন করেছে। অতীতের সব সরকার সংবিধান সংশোধন করেছে নিজেদের সুবিধামতো, নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে। তাই ক্ষমতাসীন দলের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সংবিধান সংশোধন আর নয়। জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবার সংবিধান সংস্কার করতে হবে। গণভোটের রায় মেনে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ও মতিঝিল দক্ষিণ থানা আমীর মো. মুতাছিম বিল্লাহ’র সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি এডভোকেট ওয়ালীউল্লাহ’র পরিচালনায় ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা মাঠে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট এস.এম কামাল উদ্দিন। আরও বক্তব্য রাখেন এ টি এম সিরাজুল হক, মো. এনামুল করীম। এসময় থানা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং ওয়ার্ড দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি