আগামী ২৬ আগস্ট বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবসটি পালনের লক্ষ্যে সরকার ব্যাপকভিত্তিক জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
গত ১৩ আগস্ট ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম ও মো. ইমতিয়াজ হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র এই দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী প্রদান করবেন। এদিন সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সকল স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট ও সড়কগুলো জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তায়্যিবা’ লিখিত ব্যানার দিয়ে সজ্জিত করা হবে।
দিবসটি উদযাপনে দেশজুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সকল বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ নিজস্ব অধিক্ষেত্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলার আয়োজন করা হবে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে স্মরণিকা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশ, ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার, টকশো এবং কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ ও আরবিতে খুতবা লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিশেষ অনুষ্ঠান ও টকশো প্রচার করবে এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্ম, ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ক আলোচনা সভা, কুইজ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের জন্য বিশেষ হামদ-নাত ও রচনা প্রতিযোগিতার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
মানবিক ও কল্যাণমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের সকল সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও প্রবীণ নিবাসে বন্দি ও রোগীদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপিত হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।