# বড় মাপের পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই সবাইকে মনটা বড় করতে হবে- বিরোধী দলীয় নেতা

# যদি ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়, আমরা এই সংসদে কেউ থাকতে পারব না- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম বলেছেন, আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি। জুলাইয়ের চেতনাকে যেন আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে পারি। জনগণের আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারিÑএটাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আজকে যারা আপনজন হারিয়েছে তারা কী চায়, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে তারা কী চায়, নির্বিশেষে সারা দেশবাসীটা কী চায়Ñএকটা পরিবর্তন সবাই আশা করে। সেই পরিবর্তনটা ছোটখাটো নয়, বড় মাপের পরিবর্তন। বড় মাপের পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই সবাইকে মনটা বড় করতে হবে। পরিবর্তন পদ্ধতিগত আসার আগে মনোজগতের পরিবর্তন লাগবে। পুরানো ধাঁচের ধারণা অন্তরে রেখে এ দেশকে পরিবর্তন করা অসম্ভব, এটা হবে না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মোঃ গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রথমেই গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করিÑযারা বুকের রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনেছে; বাংলাদেশকে মানুষের বাসযোগ্য একটি বাসভূমিতে পরিণত করেছে। আমি সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

তিনি বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। এই সংসদ গণঅভ্যুত্থানের ফসল। এই সংসদ একটি নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করবেÑএই আশায় বুক বেঁধেছে বাংলাদেশের সকল মানুষ। এই সংসদের উপর অনেক দায়িত্ব। আমাকে আল্লাহ সুযোগ দিয়েছেন বেশ কয়েকটি সংসদ দেখার। আমার মনে হয় এবারে যে সংসদটি গঠিত হয়েছে, অতীতের যেকোনো সংসদের চাইতে গুণগত মানে অনেক উৎকৃষ্ট একটি সংসদ আমরা পেয়েছি। এই সংসদে বিশেষ করে নারী সংসদ সদস্য যারা, এরা অত্যন্ত শিক্ষিত। এদের মধ্যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার, প্রকৌশলীÑসব ধরনের শিক্ষিত প্রতিনিধিরা রয়েছেন। একইভাবে জাতীয় সংসদে যারা সরাসরি নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, তারাও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রকৃত জনপ্রতিনিধি এরা। অতীতের অনেকগুলা সংসদ, অনেকগুলা নির্বাচনে আমাদের জন্য বিরম্বনা সৃষ্টি করেছে। এই সংসদটি আমার দেখা সবচাইতে সুষ্ঠু নির্বাচনের ফসল।

তিনি বলেন, যেজন্যে রক্ত দিয়েছে, যেজন্য জীবন দিয়েছে জুলাই যোদ্ধারাÑতাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব প্রধানত এই সংসদেরই। আশা করি আমরা সবাই মিলে এই দায়িত্বটি সুচারুভাবে পালন করতে সক্ষম হব। একটি অনুষ্ঠানে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখলামÑএক মা তার অন্ধ ছেলেকে ধরে ধরে বক্তব্যের ডায়াসে নিয়ে এসেছেন। ছেলেটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারিয়েছে। মা তাকে ধরে ধরে সকলের সামনে পরিচিত করিয়েছে, তাদের অভাব-অভিযোগের কথা বলেছে, দুঃখ-বেদনার কথা বলেছে। আমাদের এই জাতীয় সংসদের এবং বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলোÑজুলাইতে যারা জীবন দিয়েছে, জুলাইতে যাদের অঙ্গহানি হয়েছে, তাদের প্রতি যেন আমরা সুবিচার করতে পারি; এটাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। একইভাবে এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য হয়েছে। এটি একদিন-দুইদিনের নয়; ১৬টি বছর ধরে অক্রান্ত পরিশ্রম করেছে, বিপদ মাথায় নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। এটি এক গৌরবময় কাহিনী, যা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে গর্ববোধ করবে।

তিনি বলেন, আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি, জুলাইকে যেন ধারণ করতে পারি, আমরা যেন জনগণের চেতনাকে, জনগণের আশা-আকাক্সক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে পারিÑএটি হওয়া উচিত আমাদের আজকের সংকল্প। আসুন আমরা অঙ্গীকার করিÑজুলাইয়ের আত্মত্যাগকে জাতীয় জীবনের প্রেরণা রূপ দেব, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুদৃঢ় করব, জাতীয় সংসদের মর্যাদা এবং কার্যকারিতা সমুন্নত রাখব; এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ রেখে যাব, যেখানে ক্ষমতার নয়Ñআইনের ও সুশাসনের বিজয় হবে; বিভেদের নয়Ñজাতীয় ঐক্যের জয় হবে; ব্যক্তি ও দলের নয়Ñজনগণের স্বার্থই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ মানদ-। সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সবাই আশা করে বসে আছেÑফ্যাসিবাদীরা বিদায় নিয়েছে আর যেন ফ্যাসিবাদ পুরো দেশটাতে ফিরে না আসে। সামাজিক, অর্থনৈতিক বৈষম্য যেন আর কোথাও তৈরি না হয়। সব জায়গায় যেন সুশাসন কায়েম হয়। আবালবৃদ্ধবণিতা সবাই যেন তার জীবনের নিরাপত্তাটুকু খুঁজে পায়। নারীরা যেন কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, সকল জায়গায় বিশেষভাবে তাদের সম্মান এবং জীবনের নিরাপত্তা লাভ করেন। শ্রমিকরা তাদের কাজের যেন ন্যায্য পাওনাটা পায়, মজুরিটা পায়। প্রবাসীরা যেন আমাদের কাছে সম্মানিত হয়, আমরা যেন তাদেরকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে পারি। মনে রাখতে হবেÑএই গণঅভ্যুত্থান, বিপ্লব, সংগ্রামে দেশের ভিতর থেকে আমরা যেমন লড়াই করেছি, সারা বিশ্বে যে সমস্ত প্রবাসী-নিবাসী বাংলাদেশিরা আছেন, তারাও আমাদের সাথে সমান তালে লড়াই করেছেন। আমরা যেমন এই লড়াই করতে গিয়ে জেলে গিয়েছি, তারাও কিন্তু জেলে গিয়েছেন। আমাদেরকে যেমন অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তাদেরকেও শাস্তি দিয়ে বিদেশের মাটিতে, বিদেশী কারাগারে পুরে রাখা হয়েছিল। কাজেই কারো অবদান কম নয়, কাউকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এই সকলের প্রত্যাশার জায়গা একটাইÑযে আর যেন ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে ফিরে না আসে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক কাঠামো যেন স্থিতিশীল হয় এবং মজবুত ভিত্তি পায়। কিন্তু দুঃখের সাথে স্বীকার করতেই হচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে গঠিত সংসদ এখনো জাতিকে সেই আশার আলো দেখাতে সক্ষম হয়নি। অল্প কিছু পরিবর্তন ছাড়া পুরাতন বন্দোবস্ত আঁকড়ে ধরেই এ সমাজ এখনো এগিয়ে যাচ্ছে। এর যদি ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার এবং পরিবর্তন না আসে, তাহলে জনগণের এই আকাক্সক্ষা, এই প্রত্যাশা পূরণ হবে না, এটা অধরা থেকে যাবে।

তিনি আরো বলেন, আজকে যারা আপনজন হারিয়েছে তারা কী চায়, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে তারা কী চায়, নির্বিশেষে সারা দেশবাসীটা কী চায়Ñএকটা পরিবর্তন সবাই আশা করে। সেই পরিবর্তনটা ছোটখাটো নয়, বড় মাপের পরিবর্তন। বড় মাপের পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই সবাইকে মনটা বড় করতে হবে। পরিবর্তন পদ্ধতিগত আসার আগে মনোজগতের পরিবর্তন লাগবে। পুরানো ধাঁচের ধারণা অন্তরে রেখে এ দেশকে পরিবর্তন করা অসম্ভব, এটা হবে না। আমরা আর চাই না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি হোক। এটাও চাই নাÑআমাদের সন্তানরা লেখাপড়া করবে, হঠাৎ করে দেখবে বাহির থেকে কিছু লোক এসে গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে, কলেজের ভিতরে এসে পরিবেশ অশান্ত করে ফেলেছে; আমরা এটা চাই না। শিক্ষাঙ্গন হবে শিক্ষার্থীদের, শিক্ষাঙ্গন হবে শিক্ষকদের, শিক্ষাঙ্গন হবে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের; এর বাইরে শিক্ষাঙ্গন কারো হবে না। ঠিক অনুরূপভাবে বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি জমির দখল থাকবে জনগণের, অন্য কারো হবে না।

তিনি আরো বলেন, অবৈধ চাঁদা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ আমরা গড়তে পারিনি। আমি মাননীয় স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই; তিনি বলেছেন, "চার-পাঁচ মাস অতিক্রম করে এসেছি, আমরা কোনো কিছু পরিবর্তন করতে পারিনি; বরঞ্চ দুর্নীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে।" এটি শুভ লক্ষণÑবাস্তবতাকে উপলব্ধি করা। এজন্যই আমি তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। রোগের ডায়াগনোসিস হলে তার চিকিৎসা সহজ; কিন্তু ডায়াগনোসিস যদি না হয়, তাহলে ওই রোগীর সঠিক চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। আমি সরকারি দলকে বলবÑদায়িত্ব আপনাদের বেশি, আমরাও দায়িত্বমুক্ত নই। নীতি-পলিসি আপনারা ঠিক করবেন, তবে সংসদকে তার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রাখবেন। তারপরে যাই ঠিক করা হবে, কথায় এবং কাজের মিল রেখে যেন সবকিছু বাস্তবায়ন হয়। যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে আজকের রচনা প্রতিযোগিতা বলেন, চিত্রাঙ্কন বলেন, দেশব্যাপী আয়োজন বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন বলেনÑসবগুলা সার্থকতা খুঁজে পাবে। আর যদি আগের ব্যবস্থায় এই দেশ চলে, তাহলে কার্যত সবকিছু ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। আমরা ব্যর্থতা চাই না, আমরা হারতে চাই না, আমরা সম্মিলিতভাবে জিততে চাই। এই বিজয়ের বাংলাদেশে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যেটুকু করার আছে, আমরা করে যাব ইনশাআল্লাহ। মৌলিক জায়গার সংস্কারগুলা করতেই হবে। ওই সংস্কার না করলে এ সমাজ বদলাবে না। আজকে যারা সরকারি দল, চিরকাল তারা সরকারি দলে থাকবেন না। এটাই গণতন্ত্রের কথা, এটাই গণতন্ত্রের গ্রামার; এ ব্যাকরণ মেনেই চলতে হবে সবাইকে।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমি সংসদে বলেছিলামÑআজকে যারা সরকারি দল, বিরোধী দল, এমনও কোনো সংসদ বাংলাদেশে গঠিত হতে পারে, এই দুই দলের কেউ এই সংসদে থাকবেন না। এখন যে বাস্তবতা আমরা দেখছিÑএকসময়ের সরকারি দল, বিরোধী দল এখন এই সংসদে নেই। দেশ থাকবে, সংসদ থাকবে, সমাজ থাকবে; সেই দেশ, সংসদ এবং সমাজের জন্য চিন্তা করে যদি নীতি-পলিসি ঠিক করা হয়, তাহলে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে সফল হব। আর দলের মুখের দিকে খেয়াল রেখে, দলের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে যদি দেশ পরিচালনার চেষ্টা সরকারি দল করেন, আমি দ্বিধাহীনভাবে বলতে পারি আবার তারা ব্যর্থ হবেন। এবং এর খেসারত শুধু সরকারি দল দেবে না, এর খেসারত গোটা জাতিকে দিতে হবে। আমরা আর কোনো ক্ষতি স্বীকার করতে চাই না, আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক দেখতে চাই না, আর কেউ অন্ধ-পঙ্গু হোক এটা আর শুনতে চাই না। আমরা একটা নির্ভেজাল, একটা স্থিতিশীল, একটা সম্মানের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো বাংলাদেশ চাই। আসুন প্রতিজ্ঞা করি: "আমার চেয়ে আমার দল বড়, আমার দলের চেয়ে আমার দেশ বড়। আমাদের কথায়-কাজে মিল হচ্ছে না; এই জায়গায় মিল আনতেই হবে। এই জায়গায় যতদিন গরমিল থাকবে, এই বাংলাদেশ আমাদের আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মনোজগতের পরিবর্তনের কথা মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেনÑওইটাই আসল কথা। সংস্কার মনোজগতে দরকার। আমরা রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক মেরামতের কথা বলেছি, সংস্কারের কথা আপনারা বলছেন। সংস্কার, মেরামত যাই বলুন, সেই সংস্কার-মেরামতটা আসতে হবে গোড়ায়Ñসুপ্রিম ল'র মধ্যে, কনস্টিটিউশনে। আসুন সেখানে আলোচনা করি। আমরা কী কী ধারণ করতে চাই? জুলাই জাতীয় সনদকে ১০০ ভাগ আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। এর বাইরেও আর কী কী করতে চাই, জনপ্রত্যাশা এবং জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী সেখানে আমরা সব ধারণ করি, আমরা এগিয়ে যাব।

তিনি আরো বলেন, যারা দিল্লিতে যেয়ে বসে আছে, তারা এখনো হুংকার দিচ্ছে বাংলাদেশে আসবে বলে এবং বাংলাদেশে রাজনীতি করবে বলে। কিন্তু না, আজকে আমরা এখানে বাহাস করব, সংসদে বাহাস করব। সওয়ালÑযদি আওয়ামী লীগের হয়, তখন আমরা সবাই এক। এই জাতি এক, ঐক্যবদ্ধ। ফ্যাসিবাদের কখনো প্রত্যাবর্তন হতে পারবে না এ দেশে।

তিনি আরো বলেন, আমরা চাই, আপনারা আসুন; আমরা সবাই মিলেমিশে রাষ্ট্রের সুপ্রিম ল'টা আগে ঠিক করি। গণতান্ত্রিক কাঠামোটা আমরা ঠিক করি। আগামীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে, সংসদ সদস্যগণ নির্বাচনে ভোট দেবে; কিন্তু সেই সংসদ সদস্যগণ নির্বাচনে ভোট দিবে বর্তমান সংবিধানের ভিত্তিতে, যাতে দলের বাইরে কেউ ভোট দিতে পারবে না। কিন্তু আমরা ওই সংস্কার চাই, যেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে স্বাধীনভাবে ভোট দিবে দলের বাইরে। সেই সংস্কারটা আমরা নিয়ে আসব। আপনারা আসুন, ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রীর কোনো মেয়াদে থাকতে পারবে নাÑযত মেয়াদই হোক, যতবারই হোক, ১০ বছরের বেশি থাকতে পারবেন না। আমাদের নেতা সেই প্রস্তাব দিয়েছেন, আমি নিজে সংস্কার কমিশনে দিয়েছি। আমরা সেই সংস্কার আনব। রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক সংস্কার হবে, সংশোধন হবে, রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক মেরামত হবে, সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা ঢেলে সাজাবÑএ দেশে আর কোনো দিন স্বৈরাচারের উত্থান হবে না। এটাই আমরা চাই।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল এবং এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি) উপস্থিতিতে আজকে যা ঘটেছে, তার জন্য আমরা সকলেই বিব্রত। সারাদেশের নানা জেলায় আমরা এমন বিভাজন দেখেছি। এটা আমাদের কারো জন্য শুভ নয়। আমরা আশা করবো জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো সার্বজনীনভাবে পরিচালিত হবে। সার্বজনীন বক্তব্য এবং ইতিহাস উপস্থাপন করা হবে। যাতে আমরা সকলে সমানভাবে সেটির অংশীদারিত্ব অনুভব করতে পারি। দিনশেষে তো এই গণঅভ্যুত্থান জনগণের। জনগণের কৃতিত্ব যাতে আমরা জনগণকে ফিরিয়ে দিতে পারি। এই ধরনের অনুষ্ঠানে যদি দলীয় ইতিহাস বা ন্যারেটিভ প্রচার করা হয়, তাহলে বিরোধী দল বা ভিন্ন দলের অংশগ্রহণের জায়গাটা সংকুচিত হয়ে যায়। তিনি বলেন, আমরা যাতে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় দিবসকে উদযাপন করতে পারি, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই।

এসময় দেশে জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র নিশ্চিত হলে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য আরো দৃঢ় হবে বলেও উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।