# বাড়বে সরকারের ব্যাংক ঋণ

# কাটছাঁট হবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি

# বেসরকারি খাতে বেতন বাড়ানোর চাপ তৈরি হবে

# দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে

কামাল উদ্দিন সুমন: দেশে সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া পেনশন ভোগী রয়েছেন প্রায় ৯ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী। সব মিলেয়ে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে প্রায় ২৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী সুবিধা ভোগ করবেন। বিপরীতে বেকাদায় পড়বে প্রায় ১৭ কোটি মানুষ। কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন ভাতা বেড়ে যাওয়ায় পর উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে পড়বে সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, জ্বালানি সংকটে বেসরকারিখাতে উৎপাদনে স্থবিরতা, রাজস্ব আহরণে দূর্বলতা ও চার বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে বেসরকারিখাতের যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা,তখন সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বেতন বাড়িয়ে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী সম্প্রতি সংসদে জানিয়েছেন, দেশে সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন একই সঙ্গে বিভিন্ন দপ্তরে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য রয়েছে অপরদিকে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের প্রাক্কলন বাংলাদেশের বর্তমান মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৮০ লাখ।

এদিকে এই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১,০৫,৫৮০ কোটি টাকা, এবং ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে একযোগে সব ভাতা কার্যকর হওয়া শুরু হলে বছরে বেতন-ভাতায় সরকারের ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা। এটি গত অর্থবছরে আহরিত রাজস্বের প্রায় অর্ধেক। নতুন বেতন স্কেলের সর্বনি¤œ ২০তম গ্রেডে, যেখানে অষ্টম শ্রেণী পাস কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, তাদের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বেড়ে ৮,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০,০১০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ফলে গত ১৭ বছরে এই গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছে ৪৮৮ শতাংশ।

মূল বেতনের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীরা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ও শিক্ষাভাতা, যাতায়াতভাতা, মোবাইল ফোন ভাতা পাবেন। এসব ভাতা যুক্ত হলে ২০তম গ্রেডের মোট বেতন প্রায় ৩৫,০০০ টাকায় উন্নীত হবে। সর্বনি¤œ ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের পর এটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে কিংবা বাড়তি এই বিশাল অংকের অর্থের যোগান কিভাবে নিশ্চিত করা হবে তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা সমালোচনা শোনা যাচ্ছে।

একই সাথে পে-স্কেল নিয়ে সরকারি এই ঘোষণার পর দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়া অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের প্রভাবের আশঙ্কা করছেন অনেকে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী এই পে-স্কেল চলতি বছরের পহেলা জুলাই থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, পে-স্কেলে সরকার বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করেছে, তবে বেতন বৃদ্ধির কারণে ‘কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে’।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সংকটে উৎপাদনখাতে স্থবিরতার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণে দুর্বলতার কারণে অভ্যন্তরীণ আয় সংগ্রহে দুর্বলতার মধ্যেই সরকার চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বেতন বাড়িয়ে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে। এর ফলে সরকারের ব্যাংক থেকে ঋণ বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি কাটছাঁট করতে হতে পারে। পাশাপাশি চাপের মুখে পড়বে বেসরকারি খাতের মানুষ।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি অবশ্য বলেছেন, প্রতি পাঁচ বছরে পে স্কেল হওয়ার কথা কিন্তু গত ১২ বছরে তা হয়নি। এসব দিক বিবেচনা করে যতটা ব্যালেন্সড করা যায় এই বেতন কাঠামোতে তাই করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, বাজেটের ওপর চাপ কমানো, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ সামলিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য আনতে সরকার এই নবম পে-স্কেল দুই বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

তিনি বলেছেন, সব টাকা একসাথে দিতে পারবো না। আগামী দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৬ সালের পহেলা জুলাই ২০২৭ এর মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে দেওয়া হবে। ২০২৮ থেকে ভাতা যোগ হবে। ১৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক ও সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপকার পাবেন। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, “অনেক বেশি টাকা যে মানুষের হাতে পৌঁছে যাবে, এই যে একটা আশঙ্কা করছে- সরকার এত ব্যয় কোত্থেকে নির্বাহ করবে। ব্যয় বাড়বে, সে ব্যয়ের জন্য সরকারের বাজেট আছে।

অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, সরকার আগামী এক বছরে পে স্কেল যেভাবে বাস্তবায়নের কথা বলেছে সেটি বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে ব্যাংক থেকে আরও বেশি ঋণ নিতে হতে পারে এবং একই সাথে এমনিতেই সংকটের কারণে কম আসা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি আরও কাটছাঁট করতে হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পে স্কেল বাস্তবায়নে অর্থের সংস্থানের পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধির প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং সরকার যথাযথ ভূমিকা না নিলে বেসরকারি খাত চাপের মুখে পড়বে। উপরের গ্রেডে যে হারে বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে তা সরকারের ওপর চাপ তৈরি করবে। তবে নতুন পে স্কেল নীচের গ্রেডের লোকজনকে স্বস্তি দিবে, যার প্রয়োজন ছিল। তবে এক বছরের মধ্যে পে-স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য অর্থের সংস্থান কিভাবে। এজন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক সায়মা হক বিদিশা জানান, জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়ে যাওয়া ও বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতির কারণে বাংলাদেশ উৎপাদন খরচজনিত মূল্যস্ফীতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর সাথে বেতন স্কেলের একেবারে সরাসরি সম্পর্ক নেই। আবার রাজস্ব আহরণ কম হচ্ছে। কিন্তু বেতন ভাতা তো দিতে হবে। এছাড়া বাজারে পণ্য সরবরাহে কৃত্রিম সংকট কিংবা অর্থায়নের জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করবে। যা মূল্যস্ফীতি তৈরি করতে পারে।

এদিকে নতুন পে-স্কেল শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়াবে না, এর ঢেউ ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো অর্থনীতিতে। ভঙ্গুর বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির চাপ বাড়বে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। বাড়বে মূল্যস্ফীতিও। অথচ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতায় এমনিতেই চাপে শিল্প-বাণিজ্য।

বাংলাদেশ নিটপণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এই বেতন কাঠামো বেসরকারি খাতে বেতন বাড়ানোর চাপ তৈরি করবে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বেতন বাড়ানোর ক্ষমতা বেসরকারি খাতের নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াবে। বাস্তবতা হলো-অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাত কোনোভাবেই বেতন বৃদ্ধির চাপ সহ্য করতে পারবে না। কেননা গ্যাস-বিদ্যুতের কারণে একদিকে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থার কারণে রপ্তানি কমেছে।

সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন , সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্নীতি বন্ধ হবে কি না। এক্ষেত্রে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে না। বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্নীতির বন্ধ হয় না। কারণ দুর্নীতি আমাদের ডিএনএ’র সঙ্গে মিসে আছে। রন্দ্রে রন্দ্রে জড়িয়ে আছে এই দুর্নীতি। তিনি বলেন, দুর্নীতি বন্ধের জন্য দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন জরুরি। এজন্য সরকারকে রেডিকেল সার্জারিতে (বিশেষ অপারেশন) যেতে হবে। সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু সেটা কতটা নেওয়া হবে সেটি বিবেচ্য বিষয়।

সরবরাহ ঠিক থাকলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই: ব্যবসায়ীরা

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী এবং নিত্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তবে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, আমদানির ক্ষেত্রে এলসি জটিলতা, সরবরাহ ব্যবস্থার নানা প্রতিবন্ধকতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বাজার স্থিতিশীল রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, মজুত, আমদানি ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল, আটা, ময়দাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ থাকবে না। এ জন্য উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

মিল মালিকদের প্রতিনিধিরা বলেন, জ্বালানি সংকটের মধ্যেও স্থানীয় বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছেন তারা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির দাম বাড়লেও দেশের বাজারে এখনো চিনির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, আমদানি কার্যক্রম ও মিল পর্যায়ের উৎপাদন স্বাভাবিক না থাকলে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য জ্বালানি সংকট নিরসনের পাশাপাশি এলসি খোলার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থায় পণ্যের হাতবদলের সংখ্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন। তাঁর মতে, উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছানোর পথে যত বেশি স্তর থাকবে, তত বেশি খরচ যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ও বেসরকারি খাত উভয়কেই আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আমদানির ক্ষেত্রে এলসি-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতাও রয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা না গেলে আগামীতে বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পে-স্কেলের প্রভাব যেন বাজারে না পড়ে

সভায় সরকারের নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ার ফলে বাজারে চাহিদা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা গেলে এর কারণে নিত্যপণ্যের দামে অযৌক্তিক চাপ তৈরি হওয়ার কথা নয়।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, সভায় ব্যবসায়ী নেতারা নিত্যপণ্যের সরবরাহ, আমদানি, উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেসব মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলো লিপিবদ্ধ করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারে সরকারের ঘোষিত নতুন পে-স্কেলের প্রভাব যাতে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ না হয়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সব পর্যায় থেকে সহযোগিতা প্রয়োজন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা ১১ বছর ধরে একই বেতন স্কেলে কাজ করছেন। এ সময়ে তাদের বেতন সামান্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, ফলে এত বছর ধরে তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে আমি বলব, সরকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকÑউভয় দিক থেকেই একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে।

এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের ফলে অর্থনীতিতে চাপ বা নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পে-স্কেল পাওয়ার আগেই দেশে দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে। তাই শুধু বেতন বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, এমনটি ভাবার কারণ নেই।

তিনি বলেন, বেতন বৃদ্ধি আসল বিষয় নয়, বরং সরকার কীভাবে সামগ্রিক অর্থনীতি পরিচালনা করছে, সেটিই বড় কথা। সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি করতে পারলে মূল্যস্ফীতি এমনিতেই নিয়ন্ত্রণে আসবে।