প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাতসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে এ্যানি সাংবাদিকদের বলেন, সামনে বর্ষা আসছে। বন্যা ও প্লাবন হতে পারে। এক্ষেত্রে আমাদের আগাম কি কি কাজ করা দরকার সেসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনাগুলো তাঁকে অবহিত করেছি। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি অব্যাহত আছে। আগামী ২৭ এপ্রিল যশোর এবং ২ মে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। এদিন দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে সচিবালয় দফতরে যান প্রধানমন্ত্রী। এটি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের প্রথম সভা ছিল।

জ্বালানি মন্ত্রীর সাক্ষাৎ

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্ররী দফতরে তারা দেখা করেছেন। সাক্ষাৎকালে জ্বালানি তেলের সর্বশেষ পরিস্থিতি তারা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানান। সাক্ষাতের পর অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটা যুদ্ধকালীন অবস্থার মধ্যে আছি। সারা বিশ্ব তাদের জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে। এমন কি আমেরিকাও ৫ ডলার বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, সেখানে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইমপোর্ট করে আমরা যে স্টক তৈরি করেছি তার যে দাম পড়েছে, সেই দামের থেকে নিচে আমরা এখন প্রাইজ অ্যাডজাস্ট করছি। এটা করতে বাধ্য হয়েছি আমরা। কারণ এটা বৈদেশিক মুদ্রায় কিনতে হয় সেটা সমন্বয় করে যাতে আমরা সহনীয় লেভেলে থাকতে পারি সেই ব্যবস্থা করেছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, ‘ভর্তুকি এখনো আছে। আপনি যদি সঠিক হিসাব জানতে চান সেটা মন্ত্রণালয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের মানেই বিরূপ প্রভাব পড়া। এই যুদ্ধে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বে প্রভাব পড়েছে। আমাদের ওপরেও সেই প্রভাব আছে।

গভীর রাত পর্যন্ত কাজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বসে গভীর রাত পর্যন্ত অফিশিয়াল কাজ করেছেন। শনিবার দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত তিনি কার্যালয়ে অবস্থান করে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ সময় গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল (শনিবার) বিকেল থেকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাসমূহের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হয়। এ কার্যক্রম গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে।