দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৮ জনে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। নতুন করে মারা যাওয়া ১০ জনের বেশিরভাগই শিশু। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জন মারা গেছে।

এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১ হাজার ২৪৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১৩৩ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২১ জন এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫৯৯ জন। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা ঢাকার রেফারেন্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়, যা সময়সাপেক্ষ। নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজনদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং পরীক্ষার ফলাফলের পর নিশ্চিত তালিকা হালনাগাদ করা হয়।

হামের প্রধান লক্ষণ হলো শরীরে র‌্যাশ বা লালচে দানা এবং জ্বর। এই লক্ষণ আরও কিছু রোগের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তাই সব সন্দেহভাজন রোগী শেষ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন না। এ কারণেই সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যুর পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্য দেখা দেয়।

খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনা বিভাগে হাম আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৩৫৯ জনে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ ৭ এপ্রিল তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের বিভিন্ন জেলায় জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মেডিকেল কলেজ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে এসব রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জেলা ভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সর্বোচ্চ আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ায়-১০৯ জন। এর মধ্যে নতুন শনাক্ত ২১ জন। এছাড়া যশোরে মোট ৭৩ জন (নতুন ১৬), খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এলাকায় ৬২ জন (নতুন ৫) এবং বাগেরহাটে ১৯ জন (নতুন ১৪) রোগী শনাক্ত হয়েছে। অন্যান্য জেলার মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় ৮ জন, ঝিনাইদহে ৫ জন, খুলনায় ৪ জন, মাগুরায় ৩৫ জন, মেহেরপুরে ৮ জন, নড়াইলে ২১ জন এবং সাতক্ষীরায় ১৫ জন সন্দেহভাজন রোগী রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তদের অধিকাংশই বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। তাই শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

নেত্রকোনা সংবাদদাতা জানান, নেত্রকোণায় গত ২৪ ঘন্টায় ১৬ শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৫১ জনে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ পর্যন্ত ৫৯ হামের শিশু রোগী বর্তমানে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৩০জন শিশু সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরেছেন।

এদিকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে সরকার ঘোষিত হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত জেলার আটপাড়া উপজেলা তিনটি ইউনিয়নসহ ১৩টি অস্থায়ী কেন্দ্রে ৬মাস থেকে ৫বছর বয়সী সকল শিশুকে হাম ও রুবেলার টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডাঃ গোলাম মাওলা জানান,এ পর্যন্ত গত তিন দিনে ২৭৬৬জন শিশুকে হাম ও রুবেলার টিকা দেয়া হয়েছে। পর্যাক্রমে এই উপজেলায় ১৫শ শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে। টিকা কার্যক্রম চলবে ২১দিন পর্যন্ত।

এদিকে হাম সংক্রমন বৃদ্ধির পাশাপাশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।