সংসদ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে সংসদ সদস্যদের খোঁজখবর রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার বিকেলে সংসদ সচিবালয়ের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকের শুরুতেই জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের স্ত্রী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়। এসময় মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা।
এছাড়া বৈঠকে সরকারের চলমান কার্যক্রম, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন প্রণয়ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
চিফ হুইপ জানান, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে তা নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এরপরও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চালাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টনের জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং আরও ২ লাখ মেট্রিক টন আসার পথে রয়েছে।
সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম ঠিক রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছু অসাধু চক্রের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে। এমনকি সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে এমপিদের নির্দেশনা আছে। বিশেষ করে কেউ যাতে অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত তেল মজুত করতে না পারে এবং তেলের দাম যেন কোথাও না বাড়ে, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২৯ মার্চ সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে ৩০০ বিধিতে জ্বালানি মন্ত্রীর বিস্তারিত বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের বাধ্য করেছেন সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে অবহিত করতে, যাতে তারা এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। এখন থেকে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।
বৈঠক শেষে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদ শুরুর আগে রেওয়াজ অনুযায়ী বৈঠক হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর সংসদ অধিবেশন বসবে সে কারণে আলোচনা হয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়নি এবং ভর্তুকির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে। কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে সবাইকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, দুই লাখ মেট্রিক টন তেল নিয়ে এরই মধ্যে জাহাজ পৌঁছেছে এবং আরও দুই লাখ মেট্রিক টন তেল লোড হচ্ছে। ফলে দেশে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার।