আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৮ এপ্রিল শনিবার। এবারের নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই হবে। ইতোমধ্যে জমজমাট প্রচারণা চলছে। তবে এবারের নির্বাচনে এককভাবে কোন প্যানেল জয়ী না হয়ে সকল প্যানেল থেকেই পরিচালকরা নির্বাচিত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত নির্বাচনে বিগত ১৪ বছরের স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে নির্বাচিত কমিটি গঠিত হয়। এবার প্রথমবারের মতো সভাপতি, ৬ সহসভাপতি ও ২২ পরিচালক পদের সব কটিতে সরাসরি নির্বাচন হবে। সব মিলিয়ে সংগঠনটির ২৯ পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৮৮ জন ব্যবসায়ী। এর মধ্যে তিন প্যানেলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছেন।
১৮ এপ্রিল শনিবার রাজধানীর ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। এবার ভোটার হয়েছেন ৬৭৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৬১৩ জন ও চট্টগ্রামের ৬১ জন।
এবারের নির্বাচনে রিহ্যাবের সদস্যদের নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ ও প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি জোট জাগরণ ১৩ জনের একটি প্যানেল দিয়েছে। তবে সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন নবো উদ্যোগ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল খায়ের সেলিম। এই তিন প্যানেলের বাইরে তিনজন স্বতন্ত্র পরিচালক প্রার্থীও রয়েছেন।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৪ সালে ভোট ছাড়াই সংগঠনটির সভাপতি হন আলমগীর শামসুল আলামিন। পরের তিন মেয়াদেও সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি হয়। সব মিলিয়ে ১০ বছর পর ২০২৪ সালে ভোটের ধারা আবার ফেরে। সেই ভোটে আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ জয়ী হয়। সভাপতি নির্বাচিত হন জাপান গার্ডেন সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান ও সিনিয়র সহ সভাপতি নির্বাচিত হন লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। রিহ্যাবের বর্তমান পর্ষদ তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়। সে অনুযায়ী গত বছর তফসিল ঘোষণা করা হয়। ভোট হওয়ার কথা ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি। পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ভোট প্রায় দুই মাস পিছিয়ে যায়।
এবারও আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্যানেল লিডার ও সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন রিহ্যাবের বর্তমান সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান। সিনিয়র সহসভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন, লিয়াকত আলী ভূঁইয়া।
এবারের নির্বাচনে প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ নামে নতুন প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের চেয়ারম্যান মো. আলী আফজাল। এই প্যানেল থেকে সিনিয়র সহসভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন আবদুর রাজ্জাক।
জাগরণ প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন ক্যাপিটাল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খান। এই প্যানেল থেকে সিনিয়র সহসভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন আবদুল লতিফ।
সভাপতি প্রার্থী আলী আফজাল দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, আমরা নির্বাচনে জয়ী হলে রিহ্যাবের সদস্যদের ব্যবসা সহজ করতে কাজ করব। রিহ্যাবের নিজস্ব ভবন করব। ব্যয় সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণের জন্য গবেষণা সেল করার পাশাপাশি রিহ্যাবের স্কুলটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেবেন বলে তিনি জানান।
ঐক্য পরিষদের মুখপত্র লিয়াকত আলী ভূঁইয়া দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, রিহ্যাবের সকল সদস্যই আমাদের। আমদের প্যানেলই এগিয়ে আছে। আমরা সবাইকে নিয়েই ভাবি। রিহ্যাবে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় আমার প্যানেল সভাপতি এবং বর্তমান সভাপতি মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মিটিং এর পর মিটিং করেছেন। আমার বিশ্বাস আমাদের ইতিবাচক কর্মকা-ের কথা ভোটাররা মাথায় কথায় রেখেই ভোটের বিষয়টি বিবেচনা আনবেন।
জাগরণ প্যানেলের প্যানেল লিডার মোকাররম হোসেন খান বলেন, আমরা জয়ী হলে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এমন রিহ্যাব প্রতিষ্ঠা করব। এ ছাড়া শক্তিশালী বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র গড়ব। ড্যাপ সংশোধনেও আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব।
প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থীরা: সভাপতি পদে ড. আলী আফজাল (ব্যালট নং ৪), সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে আব্দুর রাজ্জাক (৫), ভাইস প্রেসিডেন্ট-০১ পদে মো: শেখ সাদী (১০), ভাইস প্রেসিডেন্ট-০২ পদে এ.কে.এম. বরকতউল্লাহ (১১), ভাইস প্রেসিডেন্ট-০৩ পদে এসএফএম ওবায়দুল্লাহ (১৭), ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) পদে ড. মো: হারুন অর রশিদ (১৮), ভাইস প্রেসিডেন্ট (চট্টগ্রাম) পদে নূর উদ্দিন আহমেদ (২২)। পরিচালক পদপ্রার্থী : ড. এন. জোহা (২৩), মো: গোলাম কিবরিয়া মজুমদার (২৭), মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (২৯), মো: আবুল বারাকাত বাবু (৩০), ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় চক্রবর্তী (৩২), ডা: এ এম কামাল উদ্দিন (৩৩), মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন (৩৬), প্রকৌশলী মো: মোস্তফা কামাল বি.ই-সি (৩৭), এ.জেড.এম কামরুদ্দিন (৩৮), মো: মোস্তাফিজুর রহমান (৪৭), এস.ডি. খাজা নাসিরুল্লাহ চৌধুরী (৪৮), হাবিবুর রহমান হাবিব (৫৪), মো: সুলতান মাহমুদ (৫৬), মুহাম্মদ লাবিব বিল্লাহ (৫৮), মো: মোসাদ্দেক উদ্দিন (৬০), মো: হামিদুল রহমান (৬৪), এম ফখরুল ইসলাম (৬৬), মো: ওসমানের হোসেন সোহেল (৬৮), ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ শামীম আজিজ (৬৯), এ.কে.এম. কামরুল আহসান (৭০)। পরিচালক (চট্টগ্রাম): শারিফ বিন ন নূর (৭৬) এবং মো: সাইদুর রহমান (৭৭)।
জাগরণ প্যানেলের প্রার্থীরা: সভাপতি পদে মুকাররম হোসেন খান (ব্যালট নম্বর: ০২), সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল লতিফ (ব্যালট নম্বর: ০৬), ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে, এ. এম. মহিব উদ্দিন (০৮), আলহাজ্ব এস এম জাহিদুল ইসলাম (১৩), মোঃ রেজাউল করিম খান (১৫), মোঃ শাহাদাত হোসেন (২০)। পরিচালক পদে, মোঃ রেজোয়ানুল হক (ব্যালট নম্বর: ৩৪), ড. ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মহিউদ্দিন সিকদার (৪৩), মোঃ আক্তার হোসেন (৪৯), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর (৪৬), আলী হোসেন (৬৫), আরটিএন এস এম এমদাদ হোসেন (৫২), মোঃ ওবায়দুর রহমান তালুকদার (৬২)।
ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থীরা হলেন, প্রেসিডেন্ট পদে মো: ওয়াহিদুজ্জামান (ব্যালটন ০১), সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে লিয়াকত আলী ভূঁইয়া (০৭), ভাইস প্রেসিডেন্ট-০১ পদে মো: আক্তার বিশ্বাস (০৯), ভাইস প্রেসিডেন্ট-০২ পদে মো: জাহাঙ্গীর আলম (১২), ভাইস প্রেসিডেন্ট-০৩ পদে ইঞ্জি: মো: মহসিন মিয়া (১৬), ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) Ñ ইঞ্জি: শেখ মোহাম্মদ শোয়েব উদ্দিন (১৯), ভাইস প্রেসিডেন্ট (চট্টগ্রাম) পদে মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান (২১)। পরিচালক পদপ্রার্থী : মো: মাহবুবুর রহমান (২৪), মো: জাহিদ হোসাইন (২৫), হক মিনাল্লাহ সেতার (২৬), ইঞ্জি: মঞ্জুরুল ফরহাদ ফিলিপ (২৮), মো: আশিকুল হক (৩১), মো: মোবারক হোসেন (৩৫), মো: ফারুক আহমেদ (৪০), প্রদীপ কর্মকার (৪১), সুরুজ সরদার (৪২), মো: জহির আহমেদ (৪৪), ক্যাপ্টেন মো: শাহ আলম (৪৫), মিসেস উম্মে জাহান আরজু (৫০), মো: আলিম উল্লাহ (৫৫), রাগিব আহসান (৫৭), মো: আইয়ুব আলী (৫৯), শেখ কামাল (৬১), মো: ইমদাদুল হক (৬৩), মোহাম্মদ শহীদুল হক (৬৭), ব্যরিস্টার জাবের আকবর হকের (৭১), তাসনোভা মাহবুব সালাম (৭২)। পরিচালক (চট্টগ্রাম): মোহাম্মদ জাফর (৭৪), এবং এ এস এম আব্দুল গাফফার মিয়াজী (৭৫)।